করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। সংকট দীর্ঘ হলে অনেক কারখানা বন্ধ ছাড়াও এই খাতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি এমএ সালাম দেশ রূপান্তরকে জানান, বিভিন্ন পোশাক কারখানার অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিতের যে রিপোর্ট পাচ্ছি তাতে আমরা শঙ্কিত। করোনায় চট্টগ্রামের শতভাগ কারখানা ক্ষতির মুখে। শনিবার পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৯৫ কোটি মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিতের তথ্য এসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের কারখানাগুলোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বলে জানান তিনি।
ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে অর্ডার বাতিল ও স্থগিতের তথ্য জানানোর আলাদা সেল খুলেছে বিজিএমইএ। প্রতিদিন বিভিন্ন কারখানা এখানে তথ্য দিচ্ছে। দেশে চালু পোশাক কারখানা প্রায় আড়াই হাজার। এর মধ্যে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সেলে ১ হাজার ৬১৩টি কারখানায় বিদেশি ক্রেতারা ২৯৫ কোটি মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল ও স্থগিতের তথ্য দিয়েছে।
চট্টগ্রামের একাধিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জানান, এখন পর্যন্ত যে ক্ষতির তথ্য এসেছে তার ৩০ শতাংশ ধরলেও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোর ক্ষতি হবে প্রায় ৮৮ দশমিক ৫ কোটি মার্কিন ডলার, টাকার হিসাবে যা প্রায় ৭৮৩ কোটি। চট্টগ্রামে বর্তমানে সচল কারখানা সাড়ে তিনশর কাছাকাছি। করোনা প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিজিএমইএর আহ্বানে অধিকাংশই আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এখন পূর্ব অর্ডার এবং করোনা মোকাবিলার সুরক্ষাসামগ্রী তৈরির কারখানাগুলো চালু রয়েছে।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ইস্টার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চীনে করোনা শনাক্তের পর থেকে আমরা ফেব্রিক্স সংকটে পড়ি। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত হতে থাকে। এসব অর্ডারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কারণ পোশাকের নির্দিষ্ট মৌসুম রয়েছে। মৌসুম শেষে এ অর্ডার বাতিলের সম্ভাবনাই বেশি। করোনায় দেশে ঠিক কী হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উন্নতির ওপর গার্মেন্টস সেক্টরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’
চট্টগ্রামের মেলো ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর বলেন, ‘পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন তাতে কিছুটা হলেও ব্যবসায়ীরা ভরসা পেয়েছেন। বাস্তবতা হলো, এতে শ্রমিকদের বেতনের সংস্থান হবে। কিন্তু এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দিতে হবে। ছোট ছোট যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংক লোন ছাড়া পুঁজি বিনিয়োগ করেছে তাদের টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন।’
মাস্ক তৈরির মোস্তফা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা ১০ লাখের বেশি মাস্ক সরবরাহ করেছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে। এরপর কী হবে সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।’
