ক্রিকেট, কেপটাউন এবং অস্ট্রেলিয়া; এই তিনের অপ্রীতিকর অতীত কাগজে-কলমে পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার সময় হয়েছে। বল ট্যাম্পারিং কা-ে দু’বছরের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল স্টিভেন স্মিথের ওপর। গতকাল ছিল তার শেষ দিন। শেষ দিন গত হওয়ায় স্মিথের নেতৃত্বে ফেরার পথে আর বাধা থাকল না। ক্রিকেট থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি আগেই কাটানো স্মিথ নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞাও কাটিয়ে উঠলেন। এবার যে কোনো সময় দলের দায়িত্ব ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চাইলে নিতে পারেন তিনি।
ট্যাম্পারিং কা-ের অপর হোতা ডেভিড ওয়ার্নারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আজীবনের। তাই কখনোই অজিদের অধিনায়ক হতে পারছেন না ওয়ার্নার।
ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দুই ক্রিকেটারই গত বিশ্বকাপের আগে ফিরেছিলেন। সেই সময় থেকে অসাধারণ ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ওয়ার্নার-স্মিথ। নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরটা অবশ্য ঘরে বসেই পেতে হলো স্মিথকে। করোনাভাইরাসের কারণে অস্ট্রেলিয়াতেও খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বন্ধটা না থাকলে অবশ্য নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে ভারতে আইপিএলের জন্য ছুটতে হতো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জুনে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দুই টেস্টের সিরিজও অনিশ্চয়তায়। সময়মতো খেলা হলে হয়তো এই সিরিজ দিয়েই আবার নেতৃত্বে ফিরতেন স্মিথ। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মিথ নিজের সন্দেহটাই প্রকাশ করেন, ‘এখন মনে হচ্ছে আইপিএলও হবে না। হয়তো ওরা কয়েক দফা আলোচনা করেছে সামনের পরিস্থিতি নিয়ে। তারাই ভালো বলতে পারবে কী হবে। আমি নিজেকে তৈরি রাখছি যেন সময় মতো খেলা গড়ালেই মাঠে নামতে পারি। আর যদি টুর্নামেন্ট না হয় তবে সমস্যা নেই, সামনের খেলার জন্য প্রস্তুত থাকব।’
গত কয়েক সিরিজে টিম পেইনের নেতৃত্বে ভালোই করেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজ ড্র করার পর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করেছে। টেস্ট র্যাংকিংয়ের তিনে উঠেছে আবার। তবে পেইনের এখন ৩৫ চলছে। এই বয়সে আর কতদিন খেলবেন সেটাই প্রশ্ন। ওদিকে ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে ৩৩ বছর বয়সী অ্যারন ফিঞ্চও অধিনায়ক হিসেবে ভালো করছেন। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিঞ্চের নেতৃত্বে থাকা নিশ্চিত। পেইন ও ফিঞ্চ মিলে এই গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের মাটিতে অজেয় রেখেছেন।
এই দুই অধিনায়ক যখন এমন সাফল্য নিয়ে এগোচ্ছেন তখন ৩০ বছর বয়সী স্মিথ কি নেতৃত্ব পাবেন? যদিও বয়সের কারণে ভবিষ্যতে আবারও স্মিথের দারস্থ হতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত অবশ্য সেরকম সম্ভাবনা নেই। কারণ গত বছর পেইনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। সেই সঙ্গে এটিও জানিয়েছেন ব্যাটিং চাপ সামলানো স্মিথের আর নেতৃত্বের চাপ নেওয়ার ইচ্ছা নেই। চ্যানেল নাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি স্মিথও নেতৃত্ব নিয়ে না ভাবার কথা জানান। আপাতত নিজেকে ফিট রেখে ক্রিকেট আবার শুরুর অপেক্ষায় অস্ট্রেলিয়াকে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া স্মিথ। নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দিনে তার ওই বিষয় নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই।
তবে যাই হোক, অধিনায়ক বা শুধু ব্যাটসম্যান, স্মিথ যেভাবেই দলে থাকুন না কেন তাকে সেভাবেই চায় অস্ট্রেলিয়া। নেতৃত্বে থাকাকালীন যেমন সফল ছিলেন; নেতৃত্ব ছাড়ার পর স্মিথ আরও তুখোড় হয়ে উঠেছেন। তাই সম্ভবত অধিনায়ক স্মিথের চেয়ে ব্যাটসম্যান স্মিথকেই বেশি প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার।
