করোনাভাইরাসের দুর্যোগে এগিয়ে এসেছেন নানা অঙ্গনের তারকারা। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও পিছিয়ে নেই। এরইমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অনেক তারকা।
এ তালিকায় নাম লিখিয়ে চমকে দিলেন বিশ্বখ্যাত গায়িকা টেইলর সুইফট। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এ মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভক্তদের ৩ হাজার ডলার (আড়াই লাখ টাকারও বেশি) করে অনুদান দেবেন। কয়েকজন ইতিমধ্যে তার অনুদান পেয়েছেনও। হলি টার্নার নামের একজন ভক্ত পেশায় ফ্রিল্যান্স মিউজিক ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক ডিজাইনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি উল্লেখ করেন, তার জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি ছেড়ে চলে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তা জানতে পেরে তিন হাজার ডলার পাঠিয়েছেন একাধিক গ্র্যামিজয়ী এই গায়িকা। টাকা পেয়ে অবাক হলি টার্নার টুইট করেছেন, ‘নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না!’ বকেয়ার ভারে জর্জরিত সামান্থা নামের এক ভক্ত সুইফটের দেওয়া অর্থ পেয়ে টুইটারে লিখেছিলেন, ‘কাজ নেই, রোজগার নেই, ইউটিলিটি বিল পরিশোধের উপায়ও নেই। এমন সময় যেন দেবদূতের মতো হাজির হলেন সুইফট। তিনি সত্যিকারের শিল্পী, যিনি ভক্তদের খোঁজ রাখেন।’ টুইটারে অ্যালেক্স গোল্ডস্মিথের মন্তব্য, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রত্যেক নাগরিককে ১২০০ ডলার দিতে পারে। সুইফট তিন হাজার ডলার করে দিচ্ছেন। সুতরাং দেশটিতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো একজনই উপযুক্ত!’ হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দিয়েছেন ১০ লাখ ডলার, কিম কারদাশিয়ান ও তার বোন মডেল কাইলি জেনার দিয়েছেন ১০ লাখ ডলার করে, গায়িকা রিয়ান্না দিয়েছেন ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, তারকা দম্পতি রায়ান রিনোল্ডস ও ব্লেক লাইভলিও সাহায্য করেছেন।
বলিউড তারকারা মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ‘পিএম কেয়ারস’-এ অনুদান দিচ্ছেন। সুপারস্টার অক্ষয় কুমার ২৫ কোটি রুপি দেওয়ার কথা জানিয়ে ভক্তদের প্রশংসা পাচ্ছেন। তার স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্না শনিবার এক টুইটবার্তায় বলেছেন, ‘আমি ওর কাজে গর্বিত’। এক কোটি রুপি দেবেন আলিয়া ভাট ও তার বাবা পরিচালক মহেশ ভাট। জনপ্রিয় কমেডি তারকা কপিল শর্মা ৫০ লাখ রুপি দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় তহবিলে। হৃতিক রোশন এন-৯৫ মাস্ক দিয়েছেন পৌরসভার সেবাকর্মীদের। বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী ১ কোটি ও সানি দেওল ৫০ লাখ রুপি দিচ্ছেন তাদের এমপিল্যাড থেকে। পুরো ভারত লকডাউন ঘোষণার পর কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে বলিউড! কারও হাতে কোনো কাজ নেই। নেই নতুন ছবির মুক্তিও। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ২৫ হাজার দিনমজুরের দায়িত্ব একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলিউডের ভাইজান সালমান খান। বরুণ ধাওয়ান দিয়েছেন ৫৫ লাখ রুপি।
কর্মহীন দক্ষিণের চলচ্চিত্র শিল্পের কলাকুশলীদের জন্য ৫০ লাখ রুপি দিচ্ছেন রজনীকান্ত। ‘বাহুবলি’ খ্যাত প্রভাস তিন কোটি রুপি দিচ্ছেন ‘পিএম কেয়ারস’-এ। এছাড়াও অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানাকে ৫০ লাখ করে। তেলুগু অভিনেতা তথা জনসেনা পার্টি প্রধান পবন কল্যাণও ‘পিএম কেয়ারস’-এ ১ কোটি, অন্ধ্র-তেলঙ্গানাকে ৫০ লাখ করে দিচ্ছেন। দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশ বাবু, আলু অর্জুন, নীতিন, রামচরণ তেজাও কোটি রুপির বেশি অনুদান দিয়েছেন।
পিছিয়ে নেই ভারতীয় বাংলা তারকারাও। সাংসদ নুসরাত জাহান নানাভাবে সাহায্য করছেন অসহায়দের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেড় লাখ রুপি দিয়েছেন আরেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। সবচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা দিলেন সুপারস্টার অভিনেতা ও সাংসদ দেব। তিনি দিচ্ছেন এক কোটি রুপি। এই টাকা নিজের সাংসদ তহবিল থেকেই তিনি দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে অনন্ত জলিল, পপি, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, মিষ্টি জান্নাত, তানহা তাসনিয়া, আঁচল, বিপাশা কবিরসহ অনেকেই সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
