ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিক ও ভাঙ্গারি কুড়ানোই তার পেশা। দিনশেষে সেগুলো বিক্রি করে যা আয় হয়, সেটা দিয়েই কোনোরকম সংসার চলে। শহরের অন্যসব ছোট-বড় পেশার মতো তার সেই ছোট্ট উপার্জনেও হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। বন্ধ হয়ে গেছে মহল্লার সব দোকানপাটও। অন্যদিকে স্বামীও তাকে ছেড়ে চলে গেছে দু’বছর হয়। নিজের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবুঝ দুই শিশুসন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিলেন না ওই সংগ্রামী মা। অবশেষে বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামলেন আকলিমা (৩২)।
ঢাকার রায়েরবাজারের ওই নারীকে গতকাল শনিবার রিকশা চালাতে দেখা যায় ধানমন্ডি এলাকায়। চৈত্রের কড়া রোদে মেশিনচালিত রিকশা নিয়ে ঘুরছেন এদিক-সেদিক। কিন্তু সড়কে লোকজন না থাকায় ভাড়া পাচ্ছিলেন না। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আয় করেছেন ২৫০ টাকা। অথচ মহাজনকে রিকশা ভাড়াই দিতে হবে ২০০ টাকা।
আকলিমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে কোনোদিন আমি রিকশার হ্যান্ডেল ধরি নাই, ভাঙ্গারি টোকাইতাম। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা বন্ধ হইয়া গেছে। আমার একটা ছেলে একটা মেয়ে আছে, তাগো বাচানির লাইগ্যা ছয় দিন ধইর্যা রিকশা চালাইতাছি। আয় যা হইতাছে তা দিয়া কোনো রকমে ডাল-ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা হইছে।’
আকলিমা থাকেন প্রেমতলা বস্তিতে। সেখানকার অন্য বাসিন্দাদের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গরিবদের সবার অবস্থাই খারাপ। ছোট ছোট বাচ্চা পোলাপান খাওনের লাইগ্যা সারা দিন কান্নাকাটি করতাছে। বাপ মায় মুখ চাইপ্যা ধইর্যা কান্দন থামাইতাছে। হ্যারা বা কী করব তাগো তো কোনো কাম কাজ সব বন্ধ হইছে। একদিন কাম না থাকলে তাগোর প্যাটে ভাত যায় না।’
আকলিমা আরও জানান, করোনাভাইরাসের কারণে হতদরিদ্র মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোনো তরফে এখনো সহযোগিতা পাননি তারা। পরিস্থিতি এভাবে চললে কয়েক দিনের মধ্যে খাদ্য সংকটে বস্তিবাসী রাস্তায় নেমে পড়বে। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা রাস্তার ময়লা আবর্জনা এই দুর্দিনের দিনে তাগো যদি সরকার একটু ডাস্টবিনে জায়গা দিত তাইলে বাঁচতে পারতাম। নইলে না খাইয়া মরতে হইব।’
