পিপিই চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২০, ০১:০৯ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের কাছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত। বিশ্বে করোনা মহামারীর এ সময়ে সম্ভব হলে এই দুটিসহ অন্য দেশেও পিপিই সরবরাহ করতে চায় বাংলাদেশ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মান অনুযায়ী বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো পিপিই তৈরি করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে রপ্তানিকারকদের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে পিপিই (গাউন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ইত্যাদি) তৈরির পর তা অনুমোদনের জন্য ডব্লিউএইচওতে পাঠানো হবে। সংস্থাটির অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে পিপিই সরবরাহ করবে বাংলাদেশ।

গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে তা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত মাসের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে পিপিই সহায়তা চেয়েছে। গত ২৪ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন নিজে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রত্যেক দেশেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত মেডিকেল ইকুইপমেন্টের চাহিদা খুব বেড়েছে। কয়েকটি দেশ তাদের দেশে এ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেওয়ার জন্য আমাদের অনুরোধ করেছে। এমনকি স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের দেশে পাঠানোর জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়ার তথ্য সত্য বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে পিপিই সরবরাহ করা যায় কি নাÑ সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পত্র পাঠান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার কথা জানান। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, কুয়েত সরকারের তরফ থেকেও একই ধরনের অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব মহামারীর এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোকে সহায়তার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কাছে পিপিই সহায়তা চেয়েছে। মূলত এ বিষয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা কতটা কী করতে পারব, তা জানতেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা যদি মানসম্পন্ন পিপিই উৎপাদন করতে পারি, তাহলে কয়েক দিক থেকে আমাদের লাভ আছে। একদিকে কারখানাও সচল হলো, উৎপাদন ও রপ্তানি হলো। অন্যদিকে বিপদের সময় বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতা করে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটানো গেল।

সফিউল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চীনে যখন করোনাভাইরাস দেখা দিল, তখন বাংলাদেশ চীনকে সামান্য সহায়তা করেছিল। এখন আমরা চীন থেকে অনেক বেশি সহায়তা পাচ্ছি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর দরকার। আমরা সে ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারব না। কিন্তু পিপিই সরবরাহ করে দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকের মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে পিপিই চেয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তা তুলে ধরে সারা দুনিয়ার বিপদের সময় অন্য দেশগুলোর পাশে থাকতে আমাদের অনুরোধ করেছেন। আর সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, কুয়েত সরকারের তরফ থেকেও বাংলাদেশের কাছে পিপিইসহ মেডিকেল উপকরণ চেয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো পিপিই সরবরাহ করে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করতে পারবে কি নাÑ এমন প্রশ্নে পারভেজ বলেন, আমরা পারব কি না, তা এখনো জানি না। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান সম্পর্কেই জানা নেই আমাদের। ওই মানের কাপড়ও নেই দেশে। তবে দুয়েকটি কারখানা সক্ষম হতে পারে। তিনি বলেন, দুয়েকজন ব্যবসায়ী চীন থেকে পিপিই কাপড় আমদানি করছেন। তারা পিপিই উৎপাদনের পর তার নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পাঠাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে তখন তা যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা যাবে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না পেলে দেশে তৈরি পিপিই বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ নেই।

পারভেজ বলেন, বাংলাদেশে চট্টগ্রামের একটি কারখানা ভালো পিপিই তৈরি করছে। কিন্তু সেটি ৩৫ মিলিমিটার কোটেড। ওই পিপিই অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকরা ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রতিরোধী পিপিই হতে হবে ৬৫ মিলিমিটার কোটেডসম্পন্ন।

বাংলাদেশে পিপিই তৈরি করছে তুসুকা গ্রুপসহ ১২টি কারখানা। তুসুকা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরশাদ জামাল দীপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যে পিপিই তৈরি করছি, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত মানের নয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পিপিইর যে মান নির্ধারণ করেছে, আমাদের তৈরি করা পিপিই সেই মানের কাছাকাছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত