মধ্যযুগ থেকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্প্যানিশদের ভরসা ছিল আন্দালুশিয়ার পাহাড়ি শহর জাহারা দে লা সিয়েরা। বহিঃশত্রুর আগ্রাসনকালে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচানো শহরটি করোনাকালেও আক্ষরিক অর্থেই দুর্গ হয়ে উঠেছে। ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু, লাখের বেশি আক্রান্ত, কয়েক মিলিয়ন সদ্য বেকার নিয়ে স্পেন যখন বিপর্যস্ত তখন দেশটির ছোট্ট একটি শহর শোনাল করোনা যুদ্ধে জয়ের গল্প।
সিএনএন জানাচ্ছে, করোনায় মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠা স্পেনের জাহারা দে লা সিয়েরায় ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ নেই। ১ হাজার ৪০০ অধিবাসীর পাহাড়ি চূড়ার এই শহর গেল ১৪ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয় অন্য এলাকার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ। বাইরে থেকে কোনো মানুষ বা যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেয় শহরটির কর্র্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শহরটি থেকে বাইরের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয় সেখানকার বাসিন্দারের জন্য।
গতকাল শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত আরও ৯৩২ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৩৫ জন। আর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১০। করোনার প্রভাবে তিন বছর পর দেশটিতে বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখেরও বেশি। অথচ সারা দেশের এই উত্তাপের আঁচ এখনো লাগেনি জাহারা দে লা সিয়েরায়। শহরটির ৪০ বছর
বয়সী মেয়র সান্তিয়াগো গ্যালভান জানান, সারা দেশেই যখন করোনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখনই তিনি তার শহরে প্রবেশের পাঁচটি শহরের সব কয়টিই পথ বন্ধ করে দেন। ওইসব প্রবেশপথে মাত্র একজন করে প্রহরী বসানো হয়েছে। তবে সবাই সহযোগিতা করায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয়নি খুব একটা।
মেয়র সান্তিয়াগো গ্যালভান সিএনএনকে বলেন, আমাদের নাগরিকরা প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি অবরুদ্ধ আছেন। কিন্তু তারা কোনো অস্থিরতা দেখাননি। তাদের সহায়তার কারণেই এখনো আমাদের শহরে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি।
তিনি জানান, তার শহরের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসীর বয়সই ৬৫ বছরের বেশি। এছাড়া শহরের রয়েছে বেশ কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রম। তাই ঝুঁকিও বেশি বিবেচনায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে তার আগে শহরটিতে ফ্রান্স ও জার্মানির যে পর্যটকরা ছিলেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
সিএনএন জানাচ্ছে, ছোট্ট এই শহরটির রাস্তাঘাটগুলোতে দুই সপ্তাহ ধরে ১০ জনের একটি দল জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে। শহরটির কৃষক থেকে শুরু করে অন্যান্য পেশার লোকজন নিজেদের যন্ত্রপাতি নিয়ে করোনা ঠেকানোর যুদ্ধে নেমেছেন। তাই করোনার এই বানের সময়েও ভেসে যাননি তারা।
