রাজস্ব আদায়ে স্বল্পতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যাবে। গতকাল শুক্রবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০’ নামে সংস্থাটির শীর্ষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপি অনুপাতে কম রাজস্ব আদায় বাংলাদেশের উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সরকারি ব্যয়কে সহায়তার জন্য করের পরিমাণ বাড়ানো এবং সংস্থানগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে। ব্যাপকভাবে কর সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো দরকার। করোনাভাইরাস ছড়ানোর ফলে বাংলাদেশে লকডাউন (অঘোষিত) চলছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রবৃদ্ধি কমছে। তারপরও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী বলে মন্তব্য করে এডিবি বলেছে, করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির
প্রবৃদ্ধি জোরালোই থাকবে।
সরকার চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এডিবি পূর্বাভাস দিয়েছিল, বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। কিন্তু করোনার প্রভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বলেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার উন্নয়ন হলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা এগিয়ে ৮ শতাংশে উঠতে পারে বলে আশা করছে এডিবি।
২০২০ সালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রিত গ্রাহক এবং বিনিয়োগের আস্থা, রপ্তানি ও আমদানি এবং আর্থিক সংস্থান পুনরুদ্ধার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সম্প্রসারণ নীতি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কয়েকটি অনুমানের ওপরে ভর করেই ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দেয় এডিবি।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে। তবে বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯-এর মহামারীর কারণে নি¤œমুখী ঝুঁকি রয়েছে। এডিবির প্রাথমিক অনুমানে ইঙ্গিত দেয়, মহামারীর প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় দশমিক ২ থেকে দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে এ প্রভাব আরও নেতিবাচক হতে পারে। কভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবিলা করতে এডিবি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মহামারী মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে প্রকাশ বলেন, ‘২০২০ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। এ সময় শ্রমিকদের রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। সরকারি উন্নয়ন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল এবং নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ আমদানি; অনুকূল বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়ক। তবে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে রপ্তানি চাহিদায় বিঘœ ও রেমিট্যান্স কমার ফলে এসব বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’
