রোগে পড়লে কোথায় যাবে রোগী

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:২৪ এএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে গত ২৮ মার্চ জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন সীতাকুণ্ড পন্থিছিলার মমতাজ জাহান (৬৫)। করোনা সন্দেহে দুদিন পর তাকে আইসিইউ থেকে বের করে সাধারণ ওয়ার্ডে দেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আবু নাসের। ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় মমতাজের মৃত্যু হয়। পরদিন বিআইটিআইডির পরীক্ষায় তার দেহে করোনার অস্তিত্ব মেলেনি। বৃদ্ধার স্বজনরা জানান, ন্যাশনালে নেওয়ার আগে মমতাজকে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কিন্তু কেউই চিকিৎসা করাতে রাজি হয়নি।

বৃদ্ধার ছেলে মো. নাঈমের অভিযোগ, ‘ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা হঠাৎ সন্দেহ করেন, আমার মায়ের করোনা হয়েছে। এরপর আইসিইউ থেকে বের করে দেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আবু নাসের। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের মৃত্যু হয়। আমাদের আকুতি ও মানবিকতা কিছুই বিবেচনা করা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর পরদিন সকালে মাকে দাফন করলাম, বিকেলেই ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি থেকে ফোন করে জানানো হলো, মায়ের করোনা ছিল না।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আবু নাসের বলেন, ‘মমতাজ জাহানের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল ছিল। এ ধরনের রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম। বিষয়টি জেনেই স্বজনরা তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে নেন। আইসিইউ থেকে কেন আমি রোগী বের করব, এটা কী কখনো সম্ভব? তাকে তো অন্যরা ভর্তিই নেয়নি, আমরা ভর্তি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডা. শামীম বক্সের পরামর্শে তার করোনা টেস্ট করা হয়। বিআইটিআইডি থেকে নমুনা নিতে লোক এলে আইসিইউ ইউনিটের অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্বজনরা সাধারণ ওয়ার্ডে নেন।’

এদিকে নগরীর অনেক রোগীই বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঘুরে সেবা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই পরে থানায় অভিযোগ করে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। এমনই এক ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার জ¦র আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসা পাননি হালিশহরের এক বাসিন্দা। পরে তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে হাজির হন। সেখানে সিএমপির উপকমিশনারের হস্তক্ষেপে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পান।

সিএমপির বিশেষ শাখার উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলেকে চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায় বাবা থানায় এসে কান্নাকাটি করেন। পরে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের গাড়ি দিয়েই তাকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ছেলেটির শরীরে করোনার উপসর্গ না পাওয়ায় সাধারণ জ¦রের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসক বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।’

সন্দেহের বশে রোগীদের সঙ্গে এমন আচরণকে অমানবিক উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সেবা দিতেই ডাক্তারি পেশা। সরকারের উচিত এখনই এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সন্দেহের বশে কাউকে চিকিৎসা না দেওয়া দায়িত্বহীন আচরণ। আমরাও কিছু অভিযোগ পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা বেসরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার ফ্লু কর্নার চালুর নির্দেশনা দিয়েছি। সবাইকে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত