করোনায় করুণদশা ফুলের রাজধানী গদখালীর

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪৬ পিএম

‘ফুলের রাজধানী’ খ্যাত যশোরের গদখালীতে করোনার কারণে এখন করুণদশা। ফুল বিক্রি করতে না পেরে কেটে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। কোথাও কোথাও গরু-ছাগলকে দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ অবিশ্বাস্য কম দামে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করছেন ফুল।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এখন প্রস্ফুটিত গোলাপ, জারবেরা, গস্নাডিওলাস, রজনিগন্ধা ও গাঁদা ফুল। এমন পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল সাধারণত চোখে পড়ে না। গোলাপ বা জারবেরা তার পাপড়ি পুরোপুরি মেলে ধরার আগেই তা কেটে বাজারে নেন ফুলচাষিরা। কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন। ফুল বিক্রি করতে পারছেন না তারা, তা ড়্গেতেই থেকে যাচ্ছে।

গদখালীর পটুয়াপাড়ার মঞ্জুর আলম বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে জারবেরা ও চার বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছেন। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফুল বেচতে পারেননি, আবার আসন্ন পহেলা বৈশাখেও একই অবস্থা হবে।

তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সব অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফুল জেলার বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না চাহিদা না থাকায়। এ অবস্থায় গাছ বাঁচিয়ে রাখতে তাদের ফুল তুলতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় কাটা ফুলগুলো তারা গবাদিপশুকে দিয়ে খাওয়াচ্ছেন।

একই কথা পটুয়াপাড়ার মেহেদি হাসান ও সৈয়দপাড়ার সেলিম মালের।

গদখালী বাজারে অবস্থিত ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ফুল প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র একেবারেই জনশূন্য। কয়েক দিন আগেও যেখানে সকাল থেকে ফুলের বেচাকেনা চলে, সেখানে মাত্র তিনজনকে দেখা যায়।

তাদের মধ্যে একজন মোহা. উজ্জ্বল হোসেন জানালেন, গদখালী ফুলের মোকামে কোনো খরিদ্দার নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কে পাইকাররা আসছেন না। এ সময় তারা খুব কম দামে ফুল কিনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, আগে যেখানে প্রতিটি গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তারা প্রতি ১০০ গোলাপ ফুল বিক্রি করছেন মাত্র ২০ টাকায়। ৫০ পিসের এক অঁাটি জারবেরা, গস্নাডিওলাস ও রজনিগন্ধা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায় এবং এক হাজার গাঁদা ফুল বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়।

গদখালীর সৈয়দপাড়া গ্রামের সেলিম মাল বললেন, ফুল তুলে তারা গরু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন অথবা ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু ফুল তুলতে মজুরি খরচ লাগে। খুব কম দামে ফুল বিক্রি করে তারা সেই খরচটা তোলার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নেওয়া সতর্কতায় সৃষ্ট অবস্থার কারণে যশোরে ৬ হাজার ফুলের কৃষক ও ফুলের ওপর নির্ভরশীল দেড় লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সারা দেশে এ অবস্থার শিকার ২০ হাজার কৃষক ও ২০ থেকে ২৫ হাজার পাইকারি বিক্রেতা।

তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলোই ফুল বিক্রির অন্যতম সময়। কিন্তু গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফুল বিক্রি করা যায়নি। আগামী পহেলা বৈশাখেও একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। এতে করে ফুল খাতে সারা দেশে আড়াই শ কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

ফ্লাওয়ার সোসাইটির নেতা প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফুলচাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত