কালকিনিতে জমি ইজারা না পেয়ে বাড়িতে হামলার অভিযোগ ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২০ পিএম

মাদারীপুরে ব্যক্তিমালিকানার জমি ইজারা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজনের হামলায় নারীসহ আহত হন ৮ কৃষক। এ সময় ভুক্তভোগীদের ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

গত শুক্রবার রাত ১১টা ও শনিবার সকালে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের ভাটবালী গ্রামে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আবদুল হাই আকন (৬০), ঝর্ণা বেগম (৪০), জায়েদা বেগম (৪০), হাওয়া বেগমের (৫০) নাম জানা গেছে।

তারা কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাটবালী এলাকার আবদুল হাই আকন ও আয়নাল আকনসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের জমিতে প্রভাব খাটিয়ে মাছ চাষ করার জন্য একটি ঘের তৈরি করে কালকিনি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা আক্তার বীথির ভাশুর সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার মোল্লা। এতে বাধা দেন স্থানীয় কৃষক আয়নাল আকন। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশও হয়।

পরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা আক্তার তার ভাশুর মোক্তার মোল্লার মাছ চাষের জন্য ওই জমি ইজারা চান। এতে অস্বীকৃতি জানায় আয়নাল আকনসহ অন্য কৃষকরা। এর জেরে ধরে মোক্তার মোল্লা লোকজন নিয়ে আয়নাল আকনের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।

এতে কৃষক আবদুল হাই আকন, আয়নাল আকনসহ তাদের পক্ষের ৮ জন আহত হন। এ সময় ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হামলায় আহত হাওয়া বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করেই কিছু লোকজন ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। বাধা দিতে গেলে মারধর শুরু করে। আমাদের ঘরে আর কিছুই নেই। সব ওরা ভেঙেচুরে লুট করে নিয়েগেছে।’

আয়নাল আকনের ছেলে দাদন আকন বলেন, ‘মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা আক্তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি জোর করে দখল করে নিতে চেষ্টা করেছে। আমরা কেউ তাদের কোনো জমি লিজ দিইনি। তারা জোর করে লিজ চাচ্ছে। লিজ না দেওয়ায় এখন জমি দখলে নিতে তার ভাশুর মোক্তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এ হামলার বিচার চাই।’

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা আক্তার বীথি বলেন, ‘জমি লিজ নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। আমার ভাশুর বা আমরা কারও বাড়িঘরে হামলা চালাইনি এবং কাউকে মারধর করিনি। তারা নিজেরা নিজেদের ঘর ভাঙচুর করছে এবং নিজেরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’ 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত