করোনার লড়াইয়ে জাকাত

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ১২:৫৮ এএম

পাকিস্তানের অন্যতম শহর করাচি দুই সপ্তাহ ধরে লকডাউন হয়ে আছে। শহরের বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম অনুসারে। কিন্তু এর মধ্যেই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ছে করাচির প্রায় অধিকাংশ রাস্তায়। মানুষজন তাদের বাড়ির সামনে খাবার, টাকা ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দরিদ্রদের দেওয়ার জন্য। আর তাদের সবার সঙ্গেই একটি বড় কাগজে লেখা আছে, ‘করোনাভাইরাস যাতে দ্রুত শেষ হয় এই প্রার্থনা করুন’।

লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের ২৫ শতাংশ মানুষ দুই বেলা খেতে পায় না। আমরা যদি শহরগুলো বন্ধ করে দিই তবে হয়তো করোনা থেকে বাঁচতে পারব। কিন্তু অন্যদিকে আমরা ক্ষুধায় মারা যাব। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের মতো অবস্থা নেই পাকিস্তানের। আমাদের দেশে মারাত্মক দারিদ্র্য রয়েছে।’ কিন্তু এর মধ্যেই এখনো আশা আছে। ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের সময় পাকিস্তানিরা কাছাকাছি না এসেও এক উদ্দীপনামূলক পন্থায় অন্যকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। মহামারীর মাঝে তারা জাকাত নিয়ে হাজির হচ্ছেন দরিদ্রদের পাশে। মুসলিমদের মধ্যে জাকাত দেওয়ার যে বিধান রয়েছে তা-ই কাজে লাগাচ্ছেন সাধারণ পাকিস্তানিরা। আরবিতে জাকাত শব্দের অর্থ ‘যা শুদ্ধ করে’। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভমতে, মুসলিমদের জন্য জাকাত অন্যতম ধর্মীয় দায়িত্ব। একজন ব্যক্তির বার্ষিক অতিরিক্ত সম্পদের আড়াই শতাংশ দেওয়ার নিয়ম জাকাতে। এই জাকাত কারা গ্রহণ করতে পারবে, সেই বিধানও বর্ণিত আছে। যারা কম ভাগ্যবান, সাময়িকভাবে সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের অধিকার রয়েছে তাদের।

করাচির হামদর্দ বিশ^বিদ্যালয়ের আণবিক জীববিজ্ঞানী ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ খানের মতে, ‘জাকাত সম্পদের দূষণ দূর করে। আমার কোনো প্রতিবেশী না খেয়ে ঘুমাতে গেলে আমাকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিবেশীরা না খেয়ে থাকা অবস্থায় কীভাবে আমি ভাড়ারঘর অতিরিক্ত পরিমাণে পূর্ণ করি।’ পাকিস্তান তার জিডিপির ১ শতাংশের বেশি দাতব্য ক্ষেত্রে অবদান রাখে। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ২ হাজার ৭০৮ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত