করোনাভাইরাসের কারণে আবাসন খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে জরুরিভাবে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ গতকাল এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকগুলো শিল্প খাত। এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। এ খাতে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাই আবাসন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এতে অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এরই প্রেক্ষাপটে ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, সে জন্য রিহ্যাবের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি। বৈশ্বিক এই সংকটে সারা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় এই আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ একটি সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
আবাসন খাতের দুঃসময়ের কথা বলতে গিয়ে রিহ্যাব পর্ষদ বিবৃতিতে জানায়, ২০১১ সালে আবাসন খাতে যে সংকট তৈরি হয়, সেটা দূর হতে কয়েক বছর লেগে যায়। খাতটি সংকট কাটিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন আবার করোনাভাইরাসের আঘাত শুরু হয়েছে। বর্তমান সময়ে যে সংকট, তা থেকে রক্ষায় এখনই কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সংকটময় এই পরিস্থিতি থেকে আবাসন খাত রক্ষায় চারটি সুপারিশ করে রিহ্যাব বলেছে, আবাসনশিল্পে বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আবাসন ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ঋণের সুদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মওকুফ ও সহজ শর্তে পুনঃতফসিল করা খুবই জরুরি দরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে আবাসনশিল্পে ২০০৭-০৮ সালের মতো হাউজিং রি-ফিন্যান্সিং স্কিম পুনরায় চালু করা অতি আবশ্যক। এ ছাড়া, রিহ্যাব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় আবাসনশিল্পের সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
চারটি সুপারিশ বাস্তবায়নের অনুরোধ রিহ্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আবাসন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্যান্য লিংকেজ শিল্প আবার গতিশীল হবে এবং সম্প্রসারিত করবে। এতে অর্থনীতি স্বাবলম্বী হবে। করোনাভাইরাস সংকট কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধি আবার বৃদ্ধি পাবে। তাই এসব দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানিয়েছেন পর্ষদ সদস্যরা।
