সিকৃবির গবেষক দল

বাংলাদেশে করোনার বিস্তারকে ধীর করে দিতে পারে তাপমাত্রা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০২:২২ এএম

দেশে করোনার বিস্তার ধীর করে দিতে পারে বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার ও তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণায় তারা এ দাবি করেন। গবেষণাপত্রটি জবংবধৎপয ঝয়ঁধৎব  নামক ওয়েবসাইটে প্রি-প্রিন্ট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রটি বর্তমানে ন্যাচার রিসার্চ গ্রুপের একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের জন্য পর্যালোচনা চলছে।

গবেষণাটিতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মহিষ থেকে প্রাপ্ত এক ধরনের করোনাভাইরাসে জিনোমের সঙ্গে সম্প্রতি কভিড-১৯ (ঈঙঠওউ-১৯) মহামারীর জন্য দায়ী সার্স-করোনাভাইরাস-২ (ঝঅজঝ-ঈড়ঠ-২) এর জিনোমের মধ্য তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিগত দিনগুলোতে  রোগ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস গ্রুপের অন্যান্য ভাইরাস যেমন সার্স (ঝঅজঝ), মার্স (গঊজঝ) ও বাদুড় থেকে প্রাপ্ত করোনাভাইরাসের মধ্যেও তুলনামূলক গবেষণা করে ফলাফল হিসেবে বলা হয় কভিড-১৯ এর জন্য দায়ী সার্স-করোনাভাইরাস-২ পূর্বে বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষ করোনাভাইরাসের সঙ্গে কম সাদৃশ্যপূর্ণ ও সার্স ভাইরাসের সঙ্গে অত্যধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, মার্চের ৯ তারিখ পর্যন্ত এপিওডেমিওলজির বিভিন্ন ডাটাবেইজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্লোবাল কেস ফাটালিটি ও মৃত্যুহার তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে স্যাটেলাইট ইমেজিং-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত চায়নার উহান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও বাংলাদেশের তাপমাত্রার তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ থেকে বলা হয় যে, বর্তমান তাপমাত্রা বাংলাদেশে  কভিড-১৯-এর বিস্তারকে অনেকটা ধীরগতি করে দিতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি থেকে মার্চ ২০২০-এ প্রকাশিত গবেষণাতে বলা হয়েছে, সার্স-করোনাভাইরাস-২ এর প্রাদুর্ভাব ৩ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে, ইউরোপীয় গবেষকদের প্রকাশিত তথ্য মতে বিশ্বে কভিড-১৯-এর ৯৫% কেস মূলত শীতপ্রধান দেশের যাদের তাপমাত্রা ৫ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই গবেষণার তথ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

গবেষণায় তারা সবাইকে সাবধান থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ইতিমধ্যেই ভাইরাসটির মধ্যে বিরূপ পরিবেশে নিজেকে পাল্টে ফেলার চারিত্রিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে যাতে কমিউনিটি বিস্তার না ঘটে  সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। না হলে দেশ ভয়ংকর মহামারীর দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বায়োইনফরম্যাটিক্স-এর বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি এবং স্যাটেলাইট ইমেজিং ও এপিডেমিওলজির বিভিন্ন ডাটাবেইজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। গবেষক দলে ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বাশির উদ্দিন, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, একোয়াটিক রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমেদ হারুন-আল-রশীদ, এপিডেমিওলজি ও পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. ইরতিজা আহসান এবং ও ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. আব্দুস শুকুর ইমরান। গবেষণাটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন এপিডেমিওলজি ও পাবলিক  হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত