করোনাভাইরাস সৃষ্ট কোভিড-১৯ এর মৃদু ধরনের সংক্রমণ সাধারণত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে নিজে থেকেই সেরে যায়। মাঝারি মাত্রার সংক্রমণে অক্সিজেন এবং তীব্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর সাপোর্টও লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগী মারা যেতে পারেন। মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রে জ্বর, হাঁচি, সর্দি, শুকনা কাশি, গলাব্যথা, শরীরব্যথা, শরীরে ম্যাজ ম্যাজ ভাব ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ সব লক্ষণের সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট দেখা যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে আক্রান্ত ব্যক্তি মাঝারি থেকে তীব্র সংক্রমণে ভুগছেন। যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ, হৃদ্যন্ত্র বিকল, বৃক্ক বিকল, হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা ইত্যাদি রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন অথবা বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যারা কেমোথেরাপি বা দীর্ঘদিন যাবৎ স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন অর্থাৎ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারা মাঝারি থেকে তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে এই করোনাভাইরাস হাঁচি, কাশি, কফ, থুতু, ড্রপলেটের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশের পর করোনাভাইরাস ফুসফুসের এসিই-২ রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ফুসফুসের কোষের ভেতরে প্রবেশ করে। ফুসফুসের কোষাভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষম কোষগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে। এর পরিমাণ এত বেশি হয়ে যায় যে তখন ইন্টারলিউকিন স্টর্ম উৎপন্ন করে ভাইরাস আক্রান্ত কোষের প্রতি আকর্ষিত হয় এবং আক্রান্ত কোষসমূহ ধ্বংস করতে থাকে। কিন্তু ইন্টারলিউকিন স্টর্ম এর জন্য অত্যাধিক পরিমাণে ফুসফুসের কোষগুলো ধ্বংস হতে থাকে। ফলে তৈরি হয় নিউমোনিয়া, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেটি একিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেসে রূপ নেয়। পরে ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
বিভিন্ন জটিল ক্ষেত্রে ইন্টারলিউকিন স্টর্ম এর জন্য ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাল্টি অরগ্যান ফাইলিউর অর্থাৎ অন্যান্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যেমন-ফালমিনেন্ট মায়োকার্ডাইটিস হয়ে হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়, একিউট কিডনি ইনজুরি হয়ে বৃক্ক তার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। একিউট হেমোরেজিক নেক্রোটাইজিং এনসেফালোপ্যাথির শিকার হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ হয়ে আক্রান্ত স্থান পচে মস্তিষ্ক তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়ার কারণে তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তি গত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুষ্ঠুভাবে মেনে চললে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণে হ্রাস পায়।
