করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সাত দফা প্রস্তাব দিয়ে তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়য়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান তিনি ওবায়দুল কাদের তার প্রথম প্রস্তাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত
স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলে সারা দেশের জনগণের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্পর্কিত গণসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সঠিক তথ্য প্রদান করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং জনসমাগম হতে পারে এমন কর্মসূচি পরিহার করবেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, কভিড-১৯ টেস্ট কিট ব্যবহারের জন্য ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও টেকনিক্যাল টিম কর্র্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল দ্রুততম সময়ে করোনাভাইরাস টেস্ট করার কিট আবিষ্কৃত হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের কিটে প্রাপ্ত ফলাফল শতভাগ সঠিক না হওয়ায় ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও টেকনিক্যাল টিম সেটা অনুমোদন দেয়নি। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন এবং জনগণকে সচেতন করবেন। বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাস টেস্টের পরিসর বিভাগীয় সদর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসাসেবা প্রার্থীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করবেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করেছে উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেছেন, এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করে নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আমাদের পেশাদারি ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য নিজেরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকে তা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করবেন। সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে মানুষের মনে সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করবেন এবং গণমাধ্যমে প্রচারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করবেন। চতুর্থ প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির অভিভাবক হিসেবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন, করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া, সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও তা আরও জোরদার করা, গরিব-দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার বিতরণ, গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা ও গুজবে কান না দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এগুলো মেনে চলবেন এবং জনগণকে মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন। ওবায়দুল কাদের তার পঞ্চম প্রস্তাবে বলেছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খোলাবাজারে ওএমএস পদ্ধতিতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল ও আটা বিক্রি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে ট্রাকে করে সুলভমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব উপজেলাতে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা ও শিশু খাদ্য প্রদান করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সব স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনকে এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন।
ষষ্ঠ প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় পর্যায়ে গরিব-অসহায়-দুস্থদের তালিকা প্রণয়ন করে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম ও শহর পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই তালিকা প্রস্তুতিতে ও এই কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন।
সপ্তম প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য তথা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তিনি বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলার জন্য নিরলসভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন। দেশবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনই পারে ভয়াবহ এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করতে। বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসীর এই ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ধৈর্য, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। পরম করুণাময় আমাদের সহায় হোন।
