৯ ঘণ্টা পড়ে ছিল গিটারিস্ট হিরুর লাশ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০১:৩৩ এএম

নারায়ণগঞ্জে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যুর পর গিটারিস্ট হিরু লিসানের (৩০) লাশ ৯ ঘণ্টা বাড়ির সামনে পড়েছিল। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কেউ লাশের কাছে যাওয়ার সাহস করেননি। অবশেষে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রের উদ্যোগে পুলিশের সহায়তায় গতকাল মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, গত সোমবার রাত দেড়টায় হিরু নগরীর দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি (কৃষ্ণচূড়া মোড়) এলাকায় মারা যান। গত

২৬ মার্চ থেকে জ্বর, ঠাণ্ডা, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মেডিনোভা ও ঢাকা মেডিকেলের বেশ কজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলেও তারা কেউ করোনাভাইরাস পরীক্ষার পরামর্শ দেননি। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হটলাইনে দুদিন চেষ্টা করেও তার টেস্টের ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। 

তারা আরও জানিয়েছেন, সোমবার রাতে সংকটাপন্ন অবস্থায় হিরুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলে পরিবারের সদস্যদের বাধা দেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এলাকা থেকে বের হতে না দেওয়ার অজুহাতে প্রায় এক ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে তারা। রোগীর জ্বর-সর্দি-শ্বাসকষ্ট রয়েছে জানতে পেরে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চালকও পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা তার টিম ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় লাশ দাফনের উদ্যোগ নেন। আফসানা আফরোজ বিভা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহতের স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। মৃতের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।’

ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। একজন প্যানেল মেয়রও ছিলেন। আমি হিরুর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে হিরুকে ওঠানোর সময় চালক ও অন্যরা বলছিলেন সে মারা গেছে তাকে আর ঢাকা নিয়ে কী হবে। এরপরই লাশ বাড়ির কাছে ফেলে রেখেছিল। করোনা আতঙ্কে কেউ আর কাছে আসেনি।’ তার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছে সিটি করপোরেশন। সেখানে পুলিশের টিম রয়েছে।”

এদিকে বেস গিটারিস্ট হিরু লিসানের আকস্মিক মৃতুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মীদের মধ্যে। হিরু স্ত্রী ও এক বছরের এক সন্তান রেখে গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত