২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে ঘুষ দিয়েছিল কাতার, যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আনা এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। একই অভিযোগ আছে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়ার বিরুদ্ধেও। তবে তারা পাত্তাই দিচ্ছে না আয়োজক নির্বাচনের ভোটে দুর্নীতির অভিযোগকে।
২০১০ সালের ভোটে ২০১৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক স্বত্ব পায় রাশিয়া এবং ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচিত হয় কাতার। তবে এর কিছুদিন পর থেকেই ওই ভোটাভুটি নিয়ে সন্দেহ ও দুর্নীতির গুঞ্জন শুরু হয়। গত সোমবার প্রমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট।
কৌঁসুলিদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে ভোট আদায়ের জন্য ফিফা নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন রাশিয়া ও কাতারের প্রতিনিধিরা। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটি (এসসি) এই অভিযোগ জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। ‘বছরের পর বছর ধরে ভুয়া দাবি তোলা হলেও কাতার অনৈতিকভাবে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছে বা ফিফার কঠোর বিডিংয়ের নিয়ম ভাঙার ফন্দি করেছে- এমন কোনো প্রমাণ কখনো হাজির করা হয়নি’ জানিয়েছে কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লেগাসি (এসসি)। ভিত্তিহীন এসব অভিযোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানায় তারা।
এদিকে রাশিয়া ২০১৮ সালে তাদের সফল আয়োজনটাই মনে রাখতে বলছে। ক্রীমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ নিয়ে ভাবছেই না তারা, ‘সম্পূর্ণ আইনগতভাবেই বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছিল রাশিয়া। এখানে কোনো ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি এটা প্রত্যাখ্যান করছি। রাশিয়া ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে, আমরা এর জন্য গর্বিত।‘
২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে রাশিয়ার সঙ্গে ছিল ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম-নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল-স্পেন। আর কাতার ছাড়াও ২০২২- এর টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৮ বিশ্বকাপের স্বত্ব নির্বাচনে রাশিয়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ওই সময়ের ফিফা সহ-সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নারকে বিভিনড়ব শেল কোম্পানির মাধ্যমে ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এফবিআইয়ের তদন্তে ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে নানা সময়ে আরও অনেকগুলো অভিযোগ উঠেছে। জন্মভূমি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজনের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্যও এক কোটি ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ৭৭ বয়সী ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ওইসময় কনকাকাফের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওয়ার্নার।
ফিফা-২০১০ নির্বাহী কমিটির দক্ষিণ আমেরিকার তিন সদস্যের বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ব্রাজিলের রিকার্দো তিজেইরা, প্যারাগুয়ের নিকোলাস লেওস ও এই ষড়যন্ত্রে সাহায্যকারী (নাম অজানা) ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক নির্বাচনে কাতারকে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে নাকি ঘুষ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি মামলায় লড়াই করতে থাকা লেওস গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। আর তিজেইরা ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিনড়ব ফুটবল প্রতিযোগিতার মার্কেটিং ও মিডিয়া স্বত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ নেওয়ার দায়ে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন। ২০১৫’র ২৭ মে জুরিখে দুর্নীতির অভিযোগে ফিফার সাত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন। তার দুদিন পর তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ বাটার পঞ্চমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও কদিন পরেই ফিফাকে ঘিরে ঘুষ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে সেসবে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ হন ১৬ বছরের বেশি ফিফা প্রধানের দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা। যদিও রাশিয়া ও কাতারকে বিশ্বকাপের আয়োজক করা নিয়ে সব রকমের দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এখন এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, সব ‘অপরাধমূলক অন্যায়ের অভিযোগ’ তদন্তের পক্ষে তারা, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের দেওয়া) অভিযোগপত্রে যে ফুটবল কর্মকর্তাদের কথা বলা হয়েছে, ফিফা এথিকস কমিটি আগেই তাদের আজীবন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিনড়ব মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে।’
×
