রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর শ্রমিকদের মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তারা তাদের জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে এই তহবিল থেকে বেতন-ভাতা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, শ্রমিকদের এনআইডি যাচাই করে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের হিসাবে বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে। তারপর থেকে গার্মেন্টস মালিকরা নানাভাবে চেষ্টা করে আসছিলেন যেন ওই তহবিলের টাকা সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে না দিয়ে মালিকদের দেওয়া হয়। এর পেছনে তারা যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছিলেন যে, অনেক শ্রমিকেরই এনআইডি নেই। তাদের ব্যাংক হিসাব নেই; বিকাশ, নগদসহ অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাও নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রমিকদের ১৪ দিনের মধ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা দিয়েছে এবং গতকাল পৃক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শ্রমিকদের এনআইডি না থাকলেও সমস্যা নেই। তাদের শুধু জন্মনিবন্ধন সনদ থাকলেই চলবে।
নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে এনআইডি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল। অনেক শ্রমিকের এনআইডি নেই বিধায় তাদের জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে। ঋণ গ্রহণে ইচ্ছুক শিল্পপ্রতিষ্ঠান যে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করে সে ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে সিন্ডিকেটেড ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ মঞ্জুর হওয়ার পর তা থেকে কর্তনযোগ্য আয়কর ও ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা বাদ দিয়ে বাকি বেতন-ভাতা শ্রমিকদের হিসাবে দেওয়া হবে। পরে ব্যাংক নিজ উদ্যোগে আয়করের টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে এবং ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করবে। প্রতিটি ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তুলবে।
