মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মারা গেছে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ১৪ লাখ। আগের ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের অনেক এলাকায়ই বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। চলতির মাসের শুরুর দিকে ইউরোপে সার্বিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যায় নিম্মমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও টানা দুইদিন ফের বড় হয়েছে মৃত্যুর মিছিল। করোনাভাইরাস মহামারীতে ধীরে ধীরে ইতালি-স্পেনের মতো মৃত্যুপুরী হতে চলেছে যুক্তরাজ্যও। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৯৩৬ জন। মহামারী শুরুর পর থেকে সেখানে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। মহামারীর প্রারম্ভিক এই পর্যায়ে ইতালিতে যে মৃত্যুহার ছিল, সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রেও সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়।
জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, একদিনেই সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ১৭৩৬ জন। যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। অবশ্য ওয়ার্ল্ডওমিটার ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দেখাচ্ছে ১৯৩৪ জন।
স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্সে আগের দিনের ধারাবাহিকতা রেখে বেড়েছে মৃত্যুর হার।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড মিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, মহামাররি রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রম রোগী শনাক্ত হয়েছিল চীনে, গত বছরের শেষ দিনে। এরপর গত তিন মাসে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার রাত ১০ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৯ জনে। আর মারা গেছে ৮৭ হাজার ৪৬২ জন। আরোগ্য লাভ করেছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯১ জন। আর এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৬ জন। এদের মধ্যে ৪৮ হাজার ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
বুধবার রাতের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৪ লাখ ১৮ হাজার ৪৫১ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ হাজার ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯০ জন। মারা গেছে ১৪ হাজার ৬৭৩ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি এখনও সবার ওপরে। দেশটিতে মারা গেছে ১৭ হাজার ৬৬৯ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজারে ৪২২ জনে। ফ্রান্সে মারা গেছে ১০ হাজার ৮৬৯ জন। আর আক্রান্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন।
অবশ্য ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানি আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে আছে। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ২ হাজার ১৯২ জন। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৮০২ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৩ জন।
ইউরোপের আরেক দেশ যুক্তরাজ্যও মৃত্যুর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৭ জনে পৌঁছেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ৭৩৩ জন।
সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৩ হাজার ২৪৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জনের। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৫৪৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৪৮ জনের। বেলজিয়ামেও রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৪০৩ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ২ হাজার ২৪০ জন। তুরস্কে ৩৮ হাজার ২২৬ জন আক্রান্ত। ৮১২ জন মারা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৫৮৬ আর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৩ জনের। এছাড়া হাজারের বেশি আক্রান্ত আছে অন্তত ৪০টি দেশে আর শতাধিক মারা যাওয়া দেশের সংখ্যা আরো বেশি।
