করোনা নিয়ন্ত্রণে মাদক কারবারিদেরও সহায়তা চায় ব্রাজিল

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০১:২৮ পিএম

দারিদ্র্যপীড়িত অনুন্নত ও বস্তি অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে সেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাদক কারবারি ও মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ব্রাজিল। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে; মৃতের সংখ্যা ৮২০।

ব্রাজিলে দরিদ্রপীড়িত বস্তিগুলো ‘ফাভেলা’ নামে পরিচিত। এসব ফাভেলায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষের বাস, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ছয় শতাংশ। অতি ঘনবসতিসম্পন্ন এসব জায়গায় নেই যথাযথ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো খুবই নড়বড়ে। ফাভেলাগুলোতে প্রাণঘাতী কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়লে ভুগান্তির কোনো শেষ থাকবে না।

তাই বাস্তবতা মেনে নিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে এসব এলাকায় আধিপত্যকারী মাদক কারবারি বা মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইস হেনরিক মানদেত্তা।

“এসব অঞ্চলে রাষ্ট্র প্রায় অনুপস্থিত। এটা আমাদের বুঝতে হবে। কোনো এলাকার আধিপত্যকারী মাদক পাচারকারী, কোনো এলাকায় মিলিশিয়া গ্রুপ।”

“বর্তমান অবস্থান তাদের সঙ্গে আমরা সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারি? আলোচনায়; হ্যাঁ, মাদক পাচারকারী, মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এটা করা যেতে পারে। কারণ তারাও মানুষ। তাদেরও সাহায্যের দরকার।”

পরীক্ষামূলক হিসেবে একটি ফাভেলা’র সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে মানদেত্তা। সেটা কোন এলাকায় সেটা জানাননি তিনি।

 ব্রাজিলে এসব এলাকায় অস্ত্রধারী ও পুলিশের মধ্যে প্রায়ই হামলার ঘটনা দেখা যায়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ কঠোরভাবে মানার পরামর্শ দেন মানদেত্তা।

করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট অতি ডানপন্থী জাইর বোলসোনারোর সঙ্গে বিবাদে জড়াতে দেখা গেছে মানদেত্তাকে। দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে এমন শঙ্কায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনগণকে ঘরে রাখতে নারাজ বোলসোনারো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত