করোনাভাইরাসের কারণে মাত্র এক রাউন্ড পরই বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এতে বিপাকে পড়ে ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে যাদের আয় এই লিগের নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাই ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি বা প্রথম শ্রেণির চুক্তিতে না থাকা ক্রিকেটার, যারা ঢাকা লিগে খেলছেন, তাদের এককালীন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয় বিসিবি।
সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ৯৬ ক্রিকেটারকে ৩০ হাজার টাকা করে চেক বিলি করেছে সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস)। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই অনুদান প্রাপ্ত ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন জাতীয় দলের সদ্য সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা!
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নিজ অবস্থান থেকে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছেন। সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অসহায়দের জন্য।
জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দিয়ে তহবিল গঠন করেন। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকলেও মাশরাফীও তাতে শামিল হন।
ক্রিকেটার ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয়- তিনি সংসদ সদস্য। যে জায়গা থেকেও কাজ করে যাচ্ছেন মাশরাফী। নিজ এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগেও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেক আগেই। অথচ সেই মাশরাফীকে নিতে হচ্ছে অনুদানের টাকা!
মাশরাফী এবারের প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। ক্লাবের কাছেই মাশরাফীসহ শেখ জামালের ৫ ক্রিকেটারের চেক হস্তান্তর করা হয়।
মাশরাফীর নামে চেক ইস্যুর বিষয়টি স্বীকার করে সিসিডিএম সদস্যসচিব আলী হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যেহেতু বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তিতে মাশরাফি নেই এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন না বলে সেই চুক্তিতেও তার নাম নেই, তাই নিয়মানুযায়ী অনুদান প্রাপ্ত ক্রিকেটারদের তালিকায় তার নাম থাকাটাই স্বাভাবিক।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরাও জানি এই টাকা তিনি (মাশরাফী) নেবেন না। কিন্তু নিয়মানুযায়ী তো তিনি এই টাকাটা পান।’
শুধু মাশরাফী নয়। বিসিবির এই অনুদান প্রাপ্তির তালিকায় আছেন জাতীয় দলের পেসার শফিউল ইসলাম ও লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবও। তারা দুজনই বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারের চুক্তিতে নেই। কিন্তু কদিন আগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে নিজেরাই অনুদান দিয়েছেন।
