ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ককারী বাংলাদেশি ডাক্তার মারা গেছেন

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০৫:২৬ এএম

‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, দয়া করে ব্রিটেনে এনএইচএসের সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষার জিনিসপত্র নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, আমরা হয়তো ডাক্তার/ নার্স/স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, যাদের প্রতিদিন সরাসরি রোগীদের সংস্পর্শে আসতে   হয়, কি ‘আমরাও মানষু, আমাদেরও মানবাধিকার আছে। আমাদেরও অধিকার আছে এই পৃিথবীতে সন্তান ও পরিবারপরিজন নিয়ে রোগমক্তুভাবে বেঁচে থাকার।’ ফেইসবুেক এই খোলা চিঠির লেখক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. আবদলু মাবদু চৌধরুী। ফেইসবুেক ব্রিটিশ প্রধ্নানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি এ পোস্টটি দিয়েছিলেন ১৮ মাচর্। এর কয়েক দিন পর তিনি ও বি্িরটশ পধ্রানমন্ত্রী দজুনই আক্রান্ত হন কভিড-নাইনটিনে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের দজুনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দে (আইসিইউ) নিয়ে যেতে হয়। ব্রিটিশ পধ্রানমন্ত্রী বরিস জনসনকে অবস্থার উনœিত হওয়ায় বহৃস্পতিবার হাসপাতালের আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়াডের্ নিয়ে আসা হয়েছে। আর তাকে করোনাভাইরাসের বিপদ সম্পকের্  যিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেই ডা. আবদলু মাবদু চৌধরুী বধুবার রাতে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। ডা. চৌধরুীর এই ট্য্রাজিক মতৃ র খবরটি বহৃ স্পতিবার থেকেই ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম দখল করে আছে। করোনাভাইরাসের কারণে সামনের কাতারে থাকা ডাক্তার, নাসর্ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে কত বিরাট ঝুিঁকর মধ্যে আছেন, সেই পশ্র আবারও উঠছে। বি্েরটনে করোনাভাইরাসের শিকার পথ্রম বাংলাদেশি চিকিৎসক : বি্েরটনের ন্যাশনাল হেলথ সাভির্স বা এনএইচএসে কাজ করেন শত শত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। ডা. আবদলু মাবদু চৌধরুী হচ্ছেন এ দেশে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া পথ্রম বাংলাদেশি ডাক্তার। তিনি ছিলেন ইউরোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তার স্ত্রীও ডাক্তার। তারা দজুনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। স্ত্রী সেরে উঠলেও ডা. আবদলু মাবদু চৌধরুীর অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। তাকে মত্যৃুর আগে হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেটারে রাখতে হয়েছিল। লন্ডনে এনএইচএসে কমর্রত আরেকজন বাংলাদেশি ডাক্তার বিশ^িজৎ রায় মত্যৃুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ডা. চৌধরুীকে দেখতে গিয়েছিলেন। পারিবারিক বন্ধ হিসেবে তিনি ডা. চৌধরুীকে চেনেন বহু বছর ধরে। ডা. বিশ্বজিৎ রায় বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, সপ্তাহখানেক আগে ডা. চৌধরুীর জর¦ ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। ‘করোনাভাইরাস হলে যেসব উপসগর্ থাকার কথা সেগুলোর কোনোটিই তার মধ্যে দেখা যায়নি। তার মধ্যে যখন সামান্য ডেলিরিয়ামের (পল্রাপ) লক্ষণ দেখা দেয়, তখন তিনি নিজেই হাসপাতালে গিয়ে ভতির্ হন।’

হাসপাতালে যাওয়ার পর জানা যায় যে ডাক্তার আবদলু মাবদু চৌধরুীর ফসুফসুটি ভালোভাবে কাজ করছে না। ‘পথ্রম দিন থেকেই তাকে নিবিড় পযর্বেক্ষণে রাখা হয়েছিল। কি ‘দেখা গেল তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে ভতির্ হওয়ার তিন দিন পর তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে সরিয়ে নেওয়া হয়।’ কৃিত্রম অক্সিজেন দিয়েও যখন ডা. চৌধরুীর অবস্থার কোনো উনœিত হলো না, তখন তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। ডাক্তার বিশ্বজিৎ রায় বলছিলেন, ভেন্টিলেশন দেওয়ার পর পথ্রম দিকে অবস্থার কিছটুা উন্নতি হয়। কি ‘এরপর তার গায়ে আবার জ্বর দেখা দেয়। একই সঙ্গে তার কিডনি, লিভার ইত্যাদির কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যাকে আমরা ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিউর’ বলে থাকি।

বধুবার হাসপাতাল থেকে জরুরি বার্তা এলো ডা. চৌধরুীর পরিবারের কাছে। ডা. বিশ্বজিৎ রায় তাদের সঙ্গে ছটুলেন হাসপাতালে। ‘আমরা বঝুতে পারছিলাম পরিস্থিতি সংকটজনক। আমরা তখনো আশা ছাড়িনি। আমরা আশা করছিলাম অলৌকিক কিছ ুঘটবে, ও আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।’ বধুবার রাত সাড়ে ১০টায় ডা. চৌধরুী শেষনিঃশাস ত্যাগ করেন। করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে বি্েরটনে পথ্রম কাতারে থেকে লড়াই করছেন যেসব ডাক্তার, এ পযর্šÍ তাদের মধ্যে অন্তত ৯ জন নিজেরাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর এই ডাক্তারদের সবাই অভিবাসী অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান, মিসর, নাইজেরিয়া, সদুানসহ বিভিন্ন দেশে জন্ম। এই তালিকায় এখন সবর্শেষ যক্তু হলো বাংলাদেশি ডাক্তার আবদলু মাবদু চৌধরুীর নাম। শোকাহত বাংলাদেশি কমিউনিটি : ডা. আবদলু মাবদু চৌধরুী ছিলেন বি্েরটনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সপুরিচিত মখু। যক্তু ছিলেন সাংস্কৃিতক কমর্কাণ্ডের সঙ্গে। তিনি পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের সিলেট ক্যাডেট কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল তার সংসার।

তার ছেলে ইনতিসার চৌধরুী স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভলু ধরিয়ে দিতে আমার বাবা কোনো দিন ভয় পাননি। কারণ তিনি তার সহকর্মী, বন্ধ, পরিবার সবার কথা ভাবতেন। এমনকি যাদের সঙ্গে হয়তো তার দেখা হয়নি, তাদের কথাও তিনি ভাবতেন।’ ইনতিসার ও তার ১১ বছর বয়সী বোন ওয়ারিশা তাদের বাবার এই ট্য্রাজিক মত্যৃু সত্তেও চিকিৎসক হওয়ারই সপ্ন দেখছেন। তারা সেই পেশাতেই যেতে চান, যে পেশায় কাজ করতে গিয়ে তাদের বাবা মারা গেলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত