করোনা আতঙ্কে ঘরে থাকলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। তিনশ মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করেছেন। গত রাতে পথশিশুদের জন্য খাবার বিতরণ করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ঘরবন্দি প্রায় এক মাস...
প্রায় এক মাস হয়ে গেল ঘরের মধ্যেই অবস্থান করছি। মনে হচ্ছে, এই এক মাস যেন এক যুগ। এভাবে গৃহবন্দি জীবনে আমরা অভ্যস্ত নই। তা ছাড়া মাও পাশে নেই। প্রায় চার মাস হলো বড় বোনের কাছে অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। আসার কথা ছিল, কিন্তু লকডাউনের কারণে আটকে গেছেন। এ জন্য আরও বেশি খারাপ লাগছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য...
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাস্তায় মানুষজনকে বেরোতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অফিস-আদালত বন্ধ থাকার কারণে নিমড়ব আয়ের মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের সরকারি-বেসরকারি বিভিনড়ব প্রতিষ্ঠান সহায়তা করছে। পাশাপাশি বিনোদন জগতের কেউ কেউ খাবার নিয়ে এরই মধ্যে এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কয়েক দিন ধরে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ ও সাবান মিলিয়ে তিনশ প্যাকেট খাবার মিরপুর, কারওয়ান বাজার, কমলাপুরসহ কয়েকটি এলাকায় বিতরণ করলাম। বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি। এরপর ভাবলাম, আমাকে দেখে ভক্ত, সহশিল্পীরা তো উৎসাহিত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে বললাম। এই মুহূর্তে এই মানুষগুলোর পাশে থাকাটা খুবই জরুরি। কারণ, এ অবস্থা কত দিন চলবে, তা কেউ জানে না।
চলচ্চিত্রের অসচ্ছল শিল্পী ও কুশলীদের জন্য...
সবাইকে সহযোগিতা করার সামর্থ্য আমার নেই। এর মধ্যে কাছের কিছু প্রোডাকশন বয় ও মেকআপম্যানকে সহযোগিতা করেছি। দাদার বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানপাড়া এলাকাতে। ওখানে নিমড়ব আয়ের কিছু মানুষ ও এতিমখানার বাচ্চার জন্য কিছু নগদ অর্থ পাঠিয়েছি। ৫ মার্চ ছিল আমার বাবার প্রম মৃত্যুবার্ষিকী। বাবা বেঁচে থাকলে এই সব মানুষের জন্য আরও বড় কিছু করতেন। বাবার আদর্শ নিয়েই অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চাইছি।
ঘরে যেভাবে সময় কাটছে ...
ঘরের কাজ করছি। মাঝেমধ্যে রানড়বাঘরে যাই। এ ছাড়া বেশির ভাগ সময় সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ দেখে সময় কাটছে। নেটফ্লিক্সে ‘সি’ ওয়েব সিরিজটা খুব ভালো লেগেছে।
শিক্ষণীয় বিষয় ...
একটি বিষয় লক্ষ করলাম, শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানবতাবোধ তৈরি হচ্ছে। ঝগড়াঝাটি ভুলে সবাই যেন এক হয়েছেন। মানুষ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। মানুষের প্রতি মানুষের দয়ামায়া তৈরি হচ্ছে। যেটি আগে এতটা ছিল না। যাই হোক, আমার বিশ্বাস, অচিরেই এই দুর্যোগ কেটে যাবে। পৃথিবীর মানুষগুলো আরও বেশি মানবিক হবে। পৃথিবীটাও আরও সুন্দর হবে।
