এ সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন। শোবিজের প্রায় সব কাজ বন্ধ থাকলেও তিনি ঘরেই ব্যস্ত নতুন কাজে। চলছে বই পড়া, লেখালেখিসহ নানা কাজ। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নতুন কাজ...
প্রায় ১৫দিন ঘরের মধ্যে বন্দি আছি। তবে শোবিজের বেশিরভাগ মানুষ যেমন কাজহীন, চাপহীন দিন কাটাচ্ছে আমার তেমনটা হয়নি। বলতে পারেন বেশ ব্যস্ততার মাঝেই কেটেছে। ওয়াটার এইড নামের একটি সংগঠন হাত ধোয়া নিয়ে একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে। সেই ক্যাম্পেইনের বেশ কিছু কাজ আমি করছি। সম্প্রতি একটি ভিডিও শ্যুট করেছি। তারপর থেকেই ঘরের মধ্যে আছি। সাধারণত, আমার কাজগুলো এডিটিংয়ের জন্য জন্য আলাদা একজন লোক থাকেন। কিন্তু এবার যেহেতু হাতে সময় পেয়েছি তাই নিজেই ধরে ধরে মনের মতো করে কাজটি করছি। ক্লায়েন্ট আমাকে বলেছে এই লকডাউনের মধ্যেই কাজটি প্রকাশ করতে হবে। এখন প্রায় সব কাজ শেষ। আগামী সপ্তাতেই হয়তো কাজটি সবাই দেখতে পাবেন। আমরা চেষ্টা করেছি শিশু, কিশোর ও তরুণদের কাছে যেন ভিডিওটি আকর্ষণীয় লাগে, তেমন একটি কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করতে। শুধু করোনার জন্য নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব থাকা সব সময়ের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরা হবে এতে। আশা করছি ভালো লাগবে সবার।
সিনেমার চিত্রনাট্য লিখছি...
এডিটিংয়ের ফাঁকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে যে কাজটি করেছি তা হলো, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ¯িঙঊপ্ট লিখছি। ফিচার ফিল্ম বানানোর স্বপড়ব অনেক দিনের। কিন্তু পেশাগত কাজের ব্যস্ততায় আমি এই কাজটিতে হাত দিতে পারছিলাম না। সাধারণত আমরা একটি ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করি। তাদের ভালোলাগা মন্দলাগাকে প্রাধান্য দিতে হয়। কিন্তু কিছু আইডিয়া থাকে যা একান্তই আমার ভালোলাগার। বলতে পারেন, μিয়েটিভ মানুষের মানসিক চাহিদা পূরণের জন্য করছি কাজগুলো। তেমনি একটি গল্প লেখার কাজ করছি। কিন্তু তা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য এখনই এর বেশিকিছু বলতে পারছি না।
বাবার কাজে মুগ্ধতা...
বাবাকে (হুমায়ূন আহমেদ) নিয়ে নতুন করে তো কিছু বলার নেই। অনেকের মতো তার কাজের ভক্ত আমি। নতুন করে মুগ্ধ হয়েছি বাবার লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ও ‘বহুব্রীহি’ ধারাবাহিক দুটি দেখে। নাটক দুটি দীর্ঘদিন পর আবারও বিটিভিতে প্রচার হচ্ছে। যখন প্রম প্রচার হয়, তখন আমার জন্মও হয়নি। এবারই নাটক দুটি প্রম দেখলাম। এক কথায় আমি অভিভূত। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে মানুষ নাটক সিনেমায় বিনোদন খোঁজে। তাই এখনো প্রচুর কমেডিভিত্তিক কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাবার লেখায় একই সঙ্গে কমেডি ও সামাজিক সচেতনতা- দুটি দিক রয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মানের কাজে দেখা যায়। বিশেষ করে ভালো লাগছে, যখন দেখছি এত বছরের পুরনো একটি নাটক নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও সমান উন্মাদনা রয়েছে। রাত সাড়ে ৮টা বাজলে অনেকেই সময় করে নাটক দুটি দেখছে। ফেইসবুকে তাদের ভালো লাগার কথা জানাচ্ছে। এই যে সময় ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে জয় করা, এটা সবাই পারে না। বাবা পেরেছেন, আর কেউ পারবে বলে আমার মনে হয় না।
