ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাত

৩ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ১২:৫৯ এএম

করোনা দুর্যোগে দেশের অন্যতম সেবা খাত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং ব্যবসায় বড় সংকটের মুখে পড়েছে। করোনাভাইরাস সংμমণের কারণে বিভিনড়ব দেশ লকডাউন থাকায় গত দুই মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসানের কবলে পড়েছে খাতটি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী মাসেও যদি করোনা সংকট স্তিমিত না হয়  তাহলে একই হারে লোকসান গুনতে হবে। সংকট কাটাতে এ খাতে দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তরা সরকারের প্রণোদনার সুবিধা দাবি করেছেন।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী একটি অন্যতম সেবা খাত। পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের মতো বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় শতভাগ কার্যক্রম ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সম্পনড়ব হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে লজিস্টিকস সেবা প্রদানে বিশ্বের ৫০টি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের স্থান এখন ৩৯তম। আর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। গত চার দশকের লজিস্টিকস খাতের উনড়বয়ন মূল্যায়ন করলে যে কারও কাছে বাংলাদেশের অগ্রগতির উপরোক্ত চিত্র বাস্তবসম্মত মনে হবে। এই খাতে বিনিয়োগকারী প্রায় ১২শ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং কোম্পানির নিরলস সেবা প্রদানের ফলে দেশের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মূল্যমান ছিল প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ডলার। যার প্রায় শতভাগ কার্যক্রম ফরওয়ার্ডিং কোম্পানিসমূহের মাধ্যমে সম্পনড়ব হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় ফ্রেইট ফরওয়ার্ড খাত দুই মাসেরও বেশ সময় লোকসানে চলছে।

বাফা পরিচালক (মিডিয়া) এবং টাওয়ার ফ্রেইট লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই সেবা খাতটি করোনাভাইরাসের সংক্রামণজনিত কারণে চলমান আমদানি-রপ্তানি স্থবিরতায় বর্তমানে কঠিন সংকটের সম্মুখীন। সহজ সরলীকরণে, বিজিএমইএর প্রাথমিক হিসেবে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের যে ত্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে এবং অদ্যাবধি যে পরিমাণ আমদানি হ্রাস পেয়েছে, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা সে পরিমাণ ব্যবসা হারিয়েছেন এবং অনুরূপ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর বাইরে অন্যান্য রপ্তানি খাত থেকে হারানো লোকসানের পরিমাণও অনেক। আর এসব কারণে বর্তমানে কর্মচারীদের বেতনভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ ও অফিস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্বাহ করতে না পারার কারণে অনেক কোম্পানি এখন অস্তিত্ব হারানোর পথে। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং অন্যরা বন্ধ করার কথা ভাবছেন। এমতবস্থায় প্রণোদনের মাধ্যমে এই খাতকে টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা) মনে করে, রপ্তানি খাতের উনড়বয়ন হলে তথা আমদানি-রপ্তানি খাত চাঙ্গা হলে সাপ্লাই চেইন পার্টনার হিসেবে বাফা সদস্যরা এর সুবিধাভোগী হবেন। কিন্তু বর্তমান প্রতিকূল অবস্থায় তারা যদি ব্যবসায় টিকে থাকতেই না পারেন বা তাদের অনুপস্থিতিতে দেশ যদি লজিস্টিকস সক্ষমতা হারায়, তাহলে কাক্সিক্ষত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। তাই, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতকে বর্তমান ক্ষতি থেকে উত্তরণের জন্য কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ও ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রণোদনা দিতে হবে এবং বেতনের ওপর আয়কর স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি চলমান ঋণের সুদ মওকুফ করা, স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে জামানতবিহীন নতুন ঋণ প্রদান করা, করপোরেট করের হার কমানো এবং অফিস ভাড়া, পানি, বিদ্যুৎসহ প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রদান অতীব জরুরি।

জানতে চাইলে বাফার সাবেক সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন- বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা সংকটে বাংলাদেশের ফ্রেইট ফরোয়ার্ড খাতের মহাসর্বনাশ ঘটেছে। এ খাতের কর্মচারীদের একমাসের বেতনই শুধু এক হাজার কোটি টাকা। একজন বায়ারের বিদেশিদের কাছে পাওনা ৫০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বের একটা নামিদামি বায়ার দেউলিয়া ঘোষণা করায় এখন আমরা এক টাকাও পাব না। এমন নজির শত শত। কীভাবে কী হবে আল্লাহই ভালো জানেন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত