ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের চার বিশ^বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগার করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। কর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই), কিট ও স্যাম্পল পেলেই দুই-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করতে পারবে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়। এই চার প্রতিষ্ঠানের ল্যাবগুলোতে প্রায় ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রো বায়োলজি, ফার্মেসি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষণাগার কভিড- ১৯ শনাক্তকরণের কাজে লাগানো যাবে। তা ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট তৈরিতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে আগ্রহী। আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কভিড-১৯ রেসপন্স টিম গঠন করেছে। এইটিমকে সমর্থন দিতে একটি টেকনিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শরীফ আখতারুজ্জামান এই টিমের প্রধান। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন তারা ১০০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। তিনি বলেন, গতকাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষাগার দেখে গেছে। তিনি বলেছেন, ল্যাবে যারা কাজ করবেন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পিপিই, কিট ও স্যাম্পল দিলেই তারা দুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবেন। তিনি বলেন, তাদের এ ল্যাবটি অত্যাধুনিক এবং অনেক আগে থেকেই কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের একটি দল রয়েছে। তারাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজটি করবে। তিনি জানান, সেখানে দুটি পিসিআর মেশিন রয়েছে, যেখানে আটজনের টিম কাজ করবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন প্রয়োজন হয়, সেই মেশিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগে রয়েছে। বিভাগ দুটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি। দিনে এখানে কমপক্ষে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ জন দক্ষ শিক্ষক কাজ করতে প্রস্তুত। গবেষণাগারগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপযোগী করে তুলতে খুব বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। সুরক্ষার জন্য যেটুকু বা যা প্রয়োজন তা বিশ্ববিদ্যালয় করে নিতে পারবে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চিঠি দিয়েছে করোনা টেস্টের বিষয়ে। ইতিমধ্যে ল্যাবগুলো করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করছি দু-একদিন পর থেকে আমরা এ পরীক্ষা শুরু করতে পারব। পরীক্ষার জন্য আমরা সরাসরি রোগীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করব না। কর্তৃপক্ষ আমাদের যে নমুনা প্রদান করবে, সেগুলো আমাদের ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাছিমা সুলতানা শনিবার আমাকে ফোন করে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তবে কী পরিমাণ পরীক্ষা করব সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। করোনা পরীক্ষা করার জন্য যত রকম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন সবই আমাদের আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের করোনা পরীক্ষা সম্ভব হবে।
গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত একটি নোটিস জারি করেছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান বকাউলের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে করোনাভাইরাস রোগ শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিবকে। চিঠিতে আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মনে করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যাচাই করে এই গবেষণাগারগুলোতে কভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু করা যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে।
