গর্ভের শিশুর করোনায় সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ নেই : ডা. সানিয়া

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৪০ এএম

করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত মায়ের গর্ভে থাকা সন্তানের করোনা-সংক্রমিত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উনড়বয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা। গতকাল রবিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ভিডিও ব্রিফিংয়ে  তিনি এ তথ্য জানান। ডা. সানিয়া বলেন, গর্ভবতী মা করোনায় আক্রান্ত হলে তার গর্ভের শিশুও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে পারে কি না, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মায়ের বুকের দুধ খেলে শিশুর করোনা সংμমণের বিষয়েও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে মা হয়তো পুরোপুরি প্রোটেকশন না নিয়ে খালি হাতে তার সন্তানকে ধরেছেন বা হাত দিয়ে ধরে বুকের দুধ খাইয়েছেন। তবে গর্ভ থেকেই শিশুর শরীরে ছড়ানোর কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় উল্লেখ করে ডা. সানিয়া বলেন, কোনো মা তার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ভালো করে হাত ধোবেন। গরম পানি দিয়ে হাত ধোবেন। মুখে মাস্ক পরবেন। মাস্ক পরে প্রয়োজনে আবারও হাত ধোবেন। এরপর দুধ খাওয়াবেন। পশু-পাখির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রম যেখান থেকে ছড়িয়েছে, উহানের একটি মার্কেট থেকে, যেখানে জীবন্ত পশু-পাখি বেচাকেনা হয়। ওইখানে ছাড়া এখন পর্যন্ত পশু-পাখির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পশু-পাখিকে স্পর্শ করার পর অবশ্যই হাত ধুতে হবে। কারণ তার শরীরেও ভাইরাসটি থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রক্তের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না, এ বিষয়েও এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। যেহেতু আমরা জানি না, তাই এ বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সামাজিক দূরত্ব নয়, শারীরিক দূরত্ব বেশি প্রয়োজন। আমরা সামাজিক দূরত্ব কমিয়ে আনব। বিভিনড়ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে, টেলিফোন আছে, এগুলোর মাধ্যমে অবশ্যই একজনের সঙ্গে আরেকজন যোগাযোগ রাখব। একে অন্যকে সহযোগিতা করব। তবে অবশ্যই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে।

হটলাইনগুলোতে অনেকে অপ্রয়োজনীয় কল করেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়াও আমরা অনেক ফোনকল পাই। অনেকে কল করে শারীরিক কোনো অসুস্থতার কথা বলেন না। অপ্রয়োজনীয় কথা বলেন। যারা দিনরাত হটলাইনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে শিষ্টাচার মেনে কথা বলা ও অহেতুক কল না করে তাদের সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত