নবজাতকের জন্ডিস

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৫৩ এএম

শিশুর জন্মের পর থকে ২৮ দিন পর্যন্ত তাকে নবজাতক বলা হয়। নবজাতকের একটি অন্যতম প্রধান রোগ হলো জন্ডিস। শিশু জন্মের পর তার শরীর ও চোখ হলুদ দেখা গেলে সে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নেন চিকিৎসকরা। জন্মের পর অনেক শিশুর শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে বিলিরুবিনকে নিয়ন্ত্রণ করে

যকৃত। নবজাতকের ক্ষেত্রে তার যকৃত পুরোপুরি তৈরি হয় না বলে বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার শরীর। তবে বেশির ভাগ সময়ই নবজাতক ধীরে ধীরে বুকের দুধ খাওয়া শুরু করলে তার শরীরে বিলিরুবিন বণ্টন হয়ে যায়। এতে জন্ডিসও সেরে যায়। আর এটা হয় শিশু জন্মের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে। তবে তিন সপ্তাহের বেশি সময় জন্ডিস থাকলে, তা শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ নবজাতকের শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেশি থাকলে তা শিশুর শ্রবণ শক্তিসহ মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। শিশুর বয়স তিন থেকে পাঁচদিন হলে তার জন্ডিস আছে কি না তা পরীক্ষা করা দরকার। নবজাতকের শরীরে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সে জায়গা হলুদ হয়ে গেলে বুঝতে হবে তার জন্ডিস আছে। রক্ত পরীক্ষাসহ বেশ কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর জন্ডিস আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

কেন হয়

 অপরিণত বয়সে (৩৭ সপ্তাহের কম সময় মায়ের গর্ভে থেকে) জন্ম নিলে।

 নবজাতকের জন্মের পর নির্দিষ্ট সময়ে মায়ের বুকের দুধ না পেলে।

মায়ের রক্তের সঙ্গে যেসব নবজাতকের রক্তের ধরন উপযুক্ত না (কারণ এতে নবজাতকের শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা রক্তের লোহিত কণিকা ভেঙে আকস্মিক বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়) ।

মায়ের শরীরে কোনো অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হলে।

মায়ের লিভারের সমস্যা থাকলে, কোনো ইনফেকশন থাকলে, কোনো এনজাইমের ঘাটতি থাকলে।

নবজাতকের লোহিত কণিকায় কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে।

করণীয়

সাধারণত জন্ডিস অল্প মাত্রায় থাকলে প্রতিদিন আট থেকে ১২ বার মায়ের দুধ পান করালে এবং শিশুকে সকালের মৃদু রোদে আধা ঘণ্টা রাখলে জন্ডিস ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যেসব পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত সেগুলো হলোÑ

জন্ডিসের মাত্রা যদি খুব বেশি মনে হয়।

নবজাতকের শরীরে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর থাকলে।

শিশুর শরীর বেশি হলুদ মনে হলে।

শিশু মায়ের দুধ পান করতে না পারলে, দুর্বল মনে হলে ও সে যদি খুব বেশি কান্না কাটি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত