৪ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৫:০৩ এএম

শস্য ও ফসল খাত ব্যতীত কৃষির অন্যান্য খাত তথা মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনাভাইরাস সংক্রমণে সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কাটাতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এই ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো মাত্র ১ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের বাইরে এ তহবিল পরিচালিত হবে। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালার আলোকে করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা এ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন। মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদের বাইরে যেসব উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কৃষক থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিনে সরাসরি বিক্রি করে তাদেরকেও এ স্কিমের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়া যাবে না। এছাড়া অন্য খাতে বিদ্যমান গ্রাহকদের যার যে পরিমাণ ঋণ রয়েছে তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে আগের ঋণ সমন্বয় করা যাবে না। একজন ঋণগ্রহীতা ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ দেড় বছরের জন্য ঋণ পাবেন। আগে কখনো ঋণ নেননি এ রকম গ্রাহকদের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ব্যাংকই ঠিক করবে তিনি কত টাকা ঋণ পাবেন। তবে একটি ব্যাংক কোনো একক খাতে ৩০ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকপর্যায়ে ঋণ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ নেবে। এর আগে পুনঃঅর্থায়ন নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গ্রাহকের অনুকূলে ঋণ দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। এ তহবিল থেকে কোন ব্যাংক কী পরিমাণ ঋণ দিতে পারবে তা নির্ভর করবে ওই ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং সক্ষমতার ওপর।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনসহ অর্থনৈতিক কর্মকা- সীমিত হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাসসহ বিভিন্ন বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় চলতি মূলধনভিত্তিক হর্টিকালচার অর্থাৎ মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক কৃষি খাত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। সে প্রেক্ষিতে উক্ত খাতগুলোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোর মোট লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শস্য ও ফসল খাতে ঋণ বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ তথা প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শস্য ও ফসল খাতে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হবে। শস্য ও ফসল খাতে চলমান ঋণপ্রবাহ পর্যাপ্ত থাকায় এ খাত অপেক্ষা কৃষির চলতি মূলধনভিত্তিক খাতগুলোয় অধিকতর ক্ষতি হতে পারে বিধায় এ খাতগুলোতে ঋণের প্রবাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমাদের প্রান্তিক চাষিরা। করোনায় সরবরাহ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতিতে চাষিরা তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেননি। তরমুজসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল মাঠেই রয়ে গেছে। লকডাউন পরিস্থিতিতে ডেইরি শিল্প ব্যাপক ক্ষতির স্বীকার হয়েছে। আমি মনে করি, সরকারের উচিত চাষিদের এককালীন কিছু অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া। আর পরবর্তী ফসল উৎপাদনে সরকার যে ঋণ দিচ্ছে, তার সুদহার আরও কমিয়ে রাখা দরকার। তবে কৃষিঋণ বিতরণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণ সরাসরি চাষিদের হাতে পৌঁছানো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত