নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারই প্রম ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ। বরণ করে নেওয়া হয়েছে পহেলা বৈশাখকে। চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে ১৪২৬ সনকে বিদায় জানিয়ে মঙ্গলবার বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বছর ১৪২৭। করোনাভাইরাসের ভয়াল এই সময় থেকে ঘুরে দাঁড়াবে মানুষ এমন প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হলো বাংলা নতুন বছর। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
নববর্ষ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সরকারি ছুটির দিন ছিল। পহেলা বৈশাখের সকালে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ না হলেও ছায়ানট বিগত বছরের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের নির্বাচিত অংশ নিয়ে ডিজিটাল উপস্থাপনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। টেলিভিশন চ্যানেলের পর্দায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটি প্রচারিত হয়েছে। অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনেও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় টেলিভিশন চ্যানেলে সেটি প্রচার করা হয়।
ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বলেছেন, ‘এবার পহেলা বৈশাখ উৎসবের দিন নয়, বিপনড়ব মানুষকে উদ্ধার করবার দিন। নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি সকলকে নিরাপদ রাখার সময়। এই সর্বব্যাপী বিপদে আক্রান্ত বিরূপ বিশ্বে মানুষ একা হয়ে পড়েছে, আবার সকল বিশ্ববাসী আজ একই সংগ্রামের সহযাত্রী হয়ে মিলেমিশে একাকার।’ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছায়ানটের ‘উজ্জীবনী সুরবাণী’ অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে বিগত বছরের আয়োজনের নির্বাচিত গান এবং বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সমাপনী কথন দিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করলেও এবার ডিজিটাল মাধ্যমে একটি পোস্টার প্রকাশ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে তাদের আয়োজন। এ ছাড়া জনসমাগম না করে ডিজিটাল মাধ্যমে গান-আবৃত্তি ও বিভিনড়ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় নববর্ষ উদযাপন করেছেন সংস্কৃ তিকর্মীরা। থিয়েটার পত্রিকা ক্ষ্যাপা আয়োজন করে ফেইসবুক লাইভ। এতে সারা দিনে ৫টি পৃথক লাইভে ৫ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সরাসরি ফেইসবুকে সম্প্রচার করা হয়।
এতে অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, শিমূল ইউসুফ, হাসান আরিফ, কলকাতার শিল্পী রিনি বিশ্বাস ও শিশুশিল্পী তোতা। নভেল করোনাভাইরাসে সবাইকে ঘরে থাকার পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
