নাটোরের লালপুরে সরকারি সহায়তার হটলাইন ‘৩৩৩’ নম্বরে ফোন করে ত্রাণ চাওয়ায় শহিদুল ইসলাম (৬৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে জখম করেছে অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সাত্তার। গত রবিবার এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী কৃষক বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এরপর থেকে চেয়ারম্যানের লোকজন হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কৃষক।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লালপুরের ৯নং অর্জুনপুর-বরমহাটি (এবি) ইউনিয়নের আঙ্গারিপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলামসহ গ্রামের প্রায় ৩০০ জন করোনাভাইরাসের এ সময়ে বেকার হয়ে পড়েন। এক দিন গণমাধ্যমে কৃষক শহিদুল জানতে পারেন ‘৩৩৩’ নম্বরে ফোন করলে খাদ্য সহায়তা পাওয়া যায়। গত ১০ এপ্রিল ‘৩৩৩’ নম্বরে ফোন করে তিনিসহ গ্রামের সবার জন্য খাদ্য সহায়তা চান ওই কৃষক। সেখান থেকে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পান কৃষক শহিদুল। ৩৩৩-এর মাধ্যমে ইউএনও চেয়ারম্যানকে ওই এলাকায় ত্রাণ সহায়তার নির্দেশ দেন। এর দুই দিন পর গত ১২ এপ্রিল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তার চৌকিদার দিয়ে ডেকে এনে কৃষককে পিটিয়ে জখম করেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার বলেন, ‘ত্রাণ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। কৃ ষককে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কৃ ষককে মারধরের অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) করা হয়েছে। ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃ পক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘টিভি স্কিনে বিজ্ঞাপনে সরকারি সহায়তার হটলাইন নাম্বার ৩৩৩ দেখে আমিসহ এলাকাবাসীর ত্রাণসামগ্রী না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজনের হুমকির মুখে আছি। এই মুহূর্তে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
