দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যত বেশিসংখ্যক লোকের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তত বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০০ পেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১০ জন। এক দিনে নমুনা পরীক্ষা, শনাক্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৫ জনের পরীক্ষা করা হয় এবং মৃত্যুবরণ করে ৭ জন।
গতকাল বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ১৯ জনের। এর মাধ্যমে ৩৪১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ১ হাজার ৫৭২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন মৃত্যুবরণ করেছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ সুস্থ হয়নি। তাই মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা আগের মতোই ৪৯ জন।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা সিঙ্গেল ডিজিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর থেকেই লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে রোগী। পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ১১ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ রোগী শনাক্তের পরের দিন এক লাফে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৩৯, পরের দিন ১৮২, তার পরের দিন ২০৯, এর পরের দিন ২১৯ ও সর্বশেষ গতকাল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৩৪১ জন। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও এত দিন ছিল সিঙ্গেল ডিজিটে। গতকাল এক দিনে ১০ জন মৃত্যুবরণ করায় তা দুই সংখ্যার ঘরে গিয়ে ঠেকল।
গতকাল মৃত্যুবরণ করা ১০ জনের বিষয়ে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, তাদের মধ্যে ছয়জনই ঢাকা শহরের। বাকি চারজন ঢাকার বাইরের। এদের মধ্যে পুরুষ সাতজন ও নারী তিনজন। তাদের বয়স ৭১-৮০-এর মধ্যে একজন, ৬১- ৭০-এর মধ্যে পাঁচ, ৫১-৬০-এর মধ্যে তিনজন ও ২১-৩০-এর মধ্যে একজন।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ১৬ হাজার ৮৮৭ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৩৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে মোট ৪৬১ জন। ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ৪ হাজার ৪৯৯ জনকে ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ৭১৫ জনকে। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৩৬ হাজার ৫৭৪ জন। বিভিণ্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৪টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৫৩টি। ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে কল এসেছে মোট ৯৬ হাজার ৭৪২টি।
রাজধানীর শতাধিক স্থানে করোনা রোগী শনাক্ত : দেশের মোট দেড় সহস্রাধিক রোগীর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই রয়েছে ছয় শতাধিক রোগী; যা মোট রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশ। গতকাল নতুন করে রাজধানীর ছয় এলাকায় রোগী পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে ১০৪ স্থানে করোনা রোগী শনাক্ত হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছে ওয়ারীতে ২৭, যাত্রাবাড়ী ২৩, মোহাম্মদপুর ২২, লালবাগ ২১, উত্তরা ২০, টোলারবাগ ১৯, ধানমন্ডি ১৮, বাসাবো ১৭ ও তেজগাঁওয়ে ১৬ জন। সম্মিলিতভাবে পুরান ঢাকা ও বৃহত্তর মিরপুরে রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া গতকাল পর্যন্ত সারা দেশের প্রায় ৪৪ জেলায় ছড়িয়েছে করোনা।
