আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য

ত্রাণের টান নেই, গরিব নিয়ে রাজনীতির চেষ্টা চলছে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০৫:২৬ এএম

করোনাভাইরাস মোকাবিলার অংশ হিসেবে দরিদ্র, দিনমজুর, অসহায় ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সরকারি- বেসরকারিভাবেও এই কার্যক্রম চলছে। তারপরও ত্রাণের দাবিতে মানুষের রাস্তায় নামার বিষয়টিকে ‘নেতিবাচক রাজনীতির খেলা’ হিসেবে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, ত্রাণ নিয়ে কোনো ‘টান’ নেই, গরিব মানুষকে নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে।

তাদের কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক যে দুর্যোগ দেখা দিয়েছে দেশে তা এক মাসও পার করেনি। এরই মধ্যে ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নেমে যাওয়ার ঘটনা সন্দেহজনক। ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও জামালপুরে ত্রাণের ট্রাক ছিনতাই হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, এ পরিস্থিতি হওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি। অথচ কয়েকটি স্থানে ত্রাণের দাবিতে অবরোধ, বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির ওই কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, ত্রাণের কোনো টান নেই। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ যাচ্ছে দরিদ্র দিনমজুর জনগোষ্ঠীর মাঝে। তাই আমরা মনে করি না রাস্তায় নামার মতো পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় নামার ঘটনা পরিকল্পিত। এদেশে যারা নেতিবাচক রাজনীতি করেন তাদের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এতে বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ত্রাণের দাবিতে বিভিণ্ণ জায়গায় শুরু হওয়া অবরোধ, বিক্ষোভ ও ত্রাণের ট্রাকে হামলার ঘটনা তাদেরই নোংরা রাজনীতির খেলা। এই খেলা সামনে আরও বাড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ত্রাণ নিয়ে নোংরা রাজনীতি হলে তা দমনের উপায়ও বের করে রাখা আছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে ত্রাণ কার্যক্রম কড়া নজরদারির আওতায় আনতে বলা হয়েছে। কিছু সমন্বয়হীনতা থাকলে তা কীভাবে দূর করা যায় তারও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের ওপর তীক্ষণ নজর রাখতে বলা হয়েছে। অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিএনপি অনুসারীদের কর্মকাণ্ড মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, সরকারের চলমান ত্রাণ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করতে রাজনৈতিক চক্রান্ত শুরু হতে পারে। সরকার ও আওয়ামী লীগের করোনা মোকাবিলায় গৃহীত কর্মসূচি বিতর্কিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করাই বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্ডা হতে পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের দুর্যোগে সরকারি-বেসরকারিভাবে যে ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এটি আর কখনই হয়নি। কিন্তু ত্রাণ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, বিএনপি কূটকৌশলের রাজনীতি শুরু করতে পারে। তারা হয়তো সরকারের বিরুদ্ধে ইস্যু সৃষ্টি করতে চায়। করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার কোনো কৌশল পরামর্শ না দিয়ে এটি নিয়ে তারা রাজনীতি করার সুযোগ খুঁজছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ত্রাণের সংকট এখনো দেখা দেয়নি। কিন্তু বিভিণ্ণ স্থানে ত্রাণের দাবিতে মানুষের রাস্তায় নেমে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা পরিকল্পিত হতে পারে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এদেশে নেতিবাচক রাজনীতির ধারকবাহক যারা, তাদের কূটচাল হতে পারে। গরিব মানুষগুলোকে সেই খেলার হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিভিণ্ণ পর্যায়ের নেতারা। কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা কম-বেশি আছে। সেটা মিটে যাবে অচিরেই। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যৌক্তিক কোনো পরামর্শ সরকারকে না দিয়ে একচেটিয়া সমালোচনা করে যাচ্ছে। এতেই বোঝা যায় তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মনোবৃত্তি রয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ত্রাণের টানে এখনই রাস্তায় নেমে যাওয়ার মতো দরিদ্র দিনমজুর জনগোষ্ঠী দেশে নেই। চলমান পরিস্থিতি দীর্ঘতর হলে এবং দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ত্রাণ না পৌঁছালে রাস্তায় নামার পরিস্থিতি হয়ত সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, এখন ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নামার ঘটনা বিএনপি-জামায়াতের নোংরা রাজনীতির খেলা হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত