করোনাভাইরাসের কারণে চলছে সাধারণ ছুটি। আর এই সময় ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন চিত্রনায়ক সাইমন। সম্প্রতি তিনি অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণও দিয়েছেন। সাধারণ ছুটিতে কেমন কাটছে জানতে চাইলে সাইমন বলেন, ‘বাসায় বসেই সময় কাটছে। কোয়ারেন্টাইন তো এক মাসের ওপর হয়ে গেল। আমরা বাসায় থেকে অভ্যস্ত নই। কিন্তু এ ছাড়া তো উপায় নেই। বাসায় বসেই সচেতনতা রক্ষা করে চলছি। আল্লাহ আল্লাহ করছি। নামাজ-কালাম পড়ছি। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। টিভি দেখি, লুডো খেলি। খোঁজখবর রাখছি চারপাশের। মাঝে মাঝে সিনেমা দেখছি। এভাবেই কাটছে সময়।’ এই সময় স্ত্রীকেও সাহায্য করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাসায় থাকলে গৃহস্থালি নানা কাজে আগে থেকেই স্ত্রীকে সহায়তা করি। যখনই বাসায় থাকতাম তখনই পারিবারিক কাজে সহায়তা করতাম।
এটা নতুন কোনো কিছু নয়। আর এখন সেই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ছে।’ করোনায় প্রায় ৫০০ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন সাইমন। ঢাকা ও তার আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করেছেন। ত্রাণ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে সাইমন বলেন, ‘কিছুদিন আগে ত্রাণ দিয়েছি। মানুষের মাঝে তখন এত হাহাকার দেখেছি যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তখন কেবল মনে হয়েছে যে আল্লাহ কেন আমাকে কোটি কোটি টাকা দেননি। টাকা থাকলে হয়তো তাদের আরও সহায়তা করতে পারতাম। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করতে পারছি না। খুব আফসোস হয়েছে। এখনো আফসোস হচ্ছে। কত মানুষ অনাহারে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। লকডাউন যদি আরও বড় হয় তাহলে কত মানুষ যে না খেয়ে মারা যাবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সিনেমা নিয়েও চিন্তিত সাইমন। তিনি বলেন, ‘সবই তো বন্ধ। ভবিষ্যতে সিনেমা চালু হওয়ার পরও অবস্থা স্বাভাবিক হতে কত যে সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না। করোনা শেষ হলেও এই দুর্দশার ছাপ দীর্ঘদিন থেকে যাবে। সারা বিশ্বেই যেহেতু একই রকম অবস্থা ফলে পরিস্থিতি সহজে স্বাভাবিক হবে না, ক্রাইসিস থেকেই যাবে।’ সাধারণ মানুষের অসচেতনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সাইমন। তিনি বলেন, ‘লকডাউন সত্বেও মানুষ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মানুষ সুযোগ পেলেই রাস্তা ঘাটে বের হয়ে পড়ছে। কারওয়ান বাজারের অবস্থা এমন লকডাউন যে আছে দেশে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। তারা কোনো সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখছে না। দিনের বেলা মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বের হওয়ার জন্য। কারও মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই।’ নিজের জেলা কিশোরগঞ্জ নিয়েও দুশ্চিন্তা করছেন এই নায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলা কিশোরগঞ্জের লোকজন একদম সচেতন নয়।
গলিতে গলিতে আড্ডা চলছে। অনেক চায়ের দোকানও খোলা। লোকজন হরহামেশাই চলাফেরা করছে। আল্লাহ না করুক, আমাদের আত্মীয়র ভেতর যদি কেউ আক্রান্ত হয় তাহলে কী হবে। এসব ভাবতেই দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। যদি মানুষ সচেতন হতো তাহলে ভালো হতো। কিন্তু বাঙালির অভ্যাস নেই তো। এটা যে সারা বিশ্বে একটা মহামারী আকার ধারণ করেছে সেটা বুঝতে পারে না। অনেকেই তো বলছিল, আমরা মুসলমান আমাদের কোনো কিছু হবে না। এমন ধারণাও আছে। অথচ তারা বোঝেনা। যারাই অসচেতনতার পরিচয় দিয়েছে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইসব মহামারীতে। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই
