বার্সেলোনার পোয়াবারো। মৌসুমের অনেকটা সময় গড়পড়তা পারফরম করেও এবারের লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে তারা। এদিকে সেভিয়া ও রিয়াল সোসিয়েদাদের ভাগ্যও কম সুপ্রসণ্ণ নয়। কারণ মৌসুম শেষ না হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সুসংবাদ শুনতে যাচ্ছে দু’দল। লা লিগা তালিকার শীর্ষ চার দলের মধ্যে তিন দলই পাচ্ছে সুসংবাদ, একমাত্র দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়া। সর্বশেষ লিগ ম্যাচে যদি রিয়াল বেতিসের সঙ্গে তারা জিতে যেত, তাহলে শিরোপাটা এবার তাদের ঘরে উঠত। সেটা না হওয়ায় দ্বিতীয় হয়েই লিগ শেষের আক্ষেপ করতে হতে পারে রিয়ালকে। স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আরএফইএফ) নতুন ঘোষণায় লা লিগার পরিস্থিতিটা এমন দাঁড়িয়েছে। ফেডারেশনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে লিগের খেলা যদি আর মাঠে না গড়ায় তাহলে বাকি ম্যাচ ছাড়াই ইতি টানতে হবে এবার। সেক্ষেত্রে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে, আর পরের দুই দল ইউরোপা লিগে। অবশ্য চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেনি তারা।
১২ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে লা লিগা। লিগের ২০টি দলই নিজেদের মধ্যে ২৭টি করে ম্যাচ খেলেছে। আরও ১১ রাউন্ড বাকি। এখন পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে ওই ১১ ম্যাচে যেকোনো কিছু হতে পারে। কারণ ১ থেকে ৭ পর্যন্ত দলগুলোর মধ্যে লড়াই হচ্ছে দারুণ। শীর্ষ দুইয়ে থাকা যথাক্রমে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে মাত্র ২ পয়েন্টের ব্যবধান। বার্সার ২৭ খেলায় ৫৮ আর রিয়ালের সমান ম্যাচে ৫৬। বার্সার সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের পয়েন্টের দূরত্ব একটু বেশি, ১১। কিন্তু তিন, চার, পাঁচ, ছয় ও সাতে থাকা যথাক্রমে সেভিয়া, রিয়াল সোসিয়েদাদ, গেতাফে, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেভিয়া (৪৭), সোসিয়েদাদ (৪৬) ও গেতাফের (৪৬) মধ্যে ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্ট। ষষ্ঠ স্থানে থাকা আতলেতিকোর পয়েন্ট ৪৫ ও পরের দল ভ্যালেন্সিয়ার ৪২। তাই মৌসুমের শেষ দিকটায় কী লড়াই হতে যাচ্ছিল সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সব থেমে গেছে করোনাভাইরাসের কারণে। এখন তো দারুণ উত্তেজনাকর মৌসুমটাই থেমে যাওয়ার জোগাড়।
বৃহস্পতিবার আরএফইএফের জেনারেল সেক্রেটারি আন্দ্রু ক্যাম্পস এক বিবৃতিতে জানান, ‘পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে এর জন্য আমরা প্রস্তুত থাকতে চাইছি। তাই একটা খসড়া করে রাখছি যেন চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এছাড়া উয়েফা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে যদি মৌসুম ছোট বা বাতিল করতে হয় তাহলে কোন কোন দল সামনের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে। সেদিকটা বিবেচনা করে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটি হলো যদি আক্ষরিক অর্থেই মৌসুম বাতিল করতে হয় তাহলে লিগের বর্তমান শীর্ষ চার দল সামনের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলবে আর বাকি দুই দল খেলবে ইউরোপায়। এতে করে ক্লাবগুলো তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে পারছে।’
ইউরো ২০২০ সরিয়ে লিগগুলোকে এই মৌসুম শেষ করার একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পুরোপুরি ঠিক না হলে তো খেলা মাঠে গড়ানো যাবে না। এমনিতেই স্পেন সরকার সম্প্রতি তাদের দেশের লকডাউন শিথিল করে পুনরায় নিজেদের করোনাপরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন। সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন বিকল্প চিন্তা করে রাখছে। এতে সবচেয়ে সুবিধা হয়েছে বার্সার।
