জ্বর-শ্বাসকষ্টে আরও ৬ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৬ এএম

জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিনড়ব স্থানে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশনে গতকাল দুপুরে এক শিশু ও সকালে এক তরুণ মারা গেছে।

এদিকে গতকাল ভোরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক নারী এবং সকালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক শিশু (৯) ও নওগাঁ সদরের জনকল্যাণপাড়া এলাকায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদরে মারা গেছেন এক বৃদ্ধ। এছাড়া গত ৮ দিনে একই উপসর্গ নিয়ে দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী দেশের বিভিনড়ব স্থানে মারা গেছেন ৭১ জন।

খুলনা : খুমেক হাসপাতালের আবাসিক ফিজিশিয়ান ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পয়েন্ট ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরের লবণচরা এলাকার ওই তরুণকে (২৪) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাজমা রোগী ওই তরুণ শ্বাসকষ্টে মারা যান। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রূপসা উপজেলার কাজদিয়া এলাকার একটি শিশু (১০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভোরে করোনা সাসপেক্টটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ : হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাছিরুজ্জামান জানান, জ্বর-সর্দি-কাশি ও কানব্যথা নিয়ে গতকা  সকালে উপজেলার পানান গ্রামে এক শিশু মারা গেছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দাফন করা হবে।

এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দিন ধরে শিশুটি কানের ব্যথাসহ জ্বর ও সর্দি-কাশিতে ভুগছিল। সকালে প্রচণ্ড ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে ওই শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে সন্দেহে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পটুয়াখালী : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, গত বুধবার দুপুরে ৪০ বছর বয়সী এক রোগী হাসপাতালের নারী মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রোগীর বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। করোনা উপসর্গ লক্ষ করায় পরদিন তাকে করোনা ইউনিটে পাঠানো হয়। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে নিরাপত্তা সহকারে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগবন্ধু মণ্ডল জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া গ্রামে ওই নারীর বাড়িসহ দুটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ওই বাড়ির ১১ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধানখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী লিভার সিরোসিসে আμান্ত ছিলেন। তিন দিন আগে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, ওই নারীর দাফন করোনা রোগীদের রীতি অনুযায়ী করা হবে।

নওগাঁ : ডেপুটি সিভিল সার্জন মনজুর-এ-মুর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল সকাল ৬টার দিকে শহরের জনকল্যাণ পাড়ার শহিদুলের মোড়ের বাড়িতে মারা যাওয়া মাহাবুব আলীর অ্যাজমা ছিল। তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাকে সংক্রমণ বিধি অনুসরণ করে ইসলামী ফাউন্ডেশন দাফন করেছে। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ওই ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় বুধবার রাতে ঢাকা থেকে নওগাঁয় আসেন। তিনি পুরান ঢাকার একটি চালের আড়তে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যরা রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) কল করলে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যকর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করেন।

মুন্সীগঞ্জ : সদরের ইউএনও মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, রামপাল ইউনিয়নের হাতিমারা এলাকার ওই বৃদ্ধ (৬৫) সর্দি- কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি চলে যান। সকালেই তার নমুনা সংগ্রহ করে প্রশাসন। পরে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাড়িতে ওই বৃদ্ধ মারা যান।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা; কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, নওগাঁ ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত