করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট অচলাবস্থায় চট্টগ্রামের দুগ্ধ খামারের বেশির ভাগ দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন জেলার প্রায় ১ লাখ লিটার দুধ নষ্ট হচ্ছে। এদিকে গ্রামে যে দুধ ২০-২৫ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে, শহরে তা ৭৫ টাকা।
ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, করোনার পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে মিল্কভিটার একমাত্র দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে দুধের চাহিদা কমে গেছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী লকডাউনে দুধের প্রধান গ্রাহক বেকারি, রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ দুধ। এর মধ্যে ঘি প্রস্তুতকারীরা কম দামে কিছু দুধ কিনে নিলেও পচনশীল হওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে অ্বিক্রিত দুধ। এদিকে দুধ বিক্রি না হলেও গরুর খাবার, কর্মচারীর বেতনসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের। এ পরিস্থিতি আর কিছুদিন থাকলে খামারের গরু বিক্রি করে খাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী ও নগরীর বাইরে বিভিনড়ব উপজেলায় রয়েছে অন্তত সাড়ে চার হাজার দুগ্ধ খামার। এসব খামার থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ লিটার দুধ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত খামারগুলো থেকে উৎপাদিত দুধের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ লিটার। অবশিষ্ট সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয় শহরের বাইরের খামারে।
চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর (বাবু) দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে মিষ্টিজাত পণ্যের কারখানা, রেস্টুরেন্ট, বেকারিসহ দুধের প্রধান প্রধান গ্রাহক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তা ছাড়া গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির পরিপ্রেক্ষিতে প্রচুর লোক নগরী ছেড়ে গেছে। এ অবস্থায় দুধ বিক্রি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চট্টগ্রামে খামারে উৎপাদিত দুধের প্রায় অর্ধেক অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। পচনশীল হওয়ায় এসব দুধ রেখে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে বেশি বিপাকে পড়েছেন গ্রাম এলাকার খামারিরা। তারা বিμি করতে না পেরে অনেক দুধ ফেলে দিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু দুধ বিভিনড়ব প্রতিষ্ঠান ঘি বানানোর জন্য কম দামে কিনে নিচ্ছে। শহরের খামারিদের অনেকে অবি্ক্রীত দুধ বিভিনড়ব বস্তিতে ফ্রি দিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ লিটার দুধ নষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, শহরের বাইরে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি খামার রয়েছে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে কর্ণফুলী ও পশ্চিম পটিয়ার বিভিনড়ব এলাকায়। কর্ণফুলী উপজেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় প্রায় ৭০০ দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামারে দৈনিক উৎপাদিত দুধের পরিমাণ ৭০ হাজার লিটার। এসব খামারে উৎপাদিত দুধের বড় একটি অংশ বিক্রি না হওয়ার কারণে প্রতিদিন ফেলে দিতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় রয়েছে মিল্কভিটার একটি দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র। আগে ওই কেন্দ্রে খামারিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তারা প্রথম দিকে দুধ সংগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পরে সীমিত আকারে দুধ সংগ্রহ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
