‘পালিয়েছে’ ৬০-৭০ রোহিঙ্গা করোনা আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০৬:১৯ এএম

কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে ট্রলার থেকে উদ্ধারের আগেই ৬০ থেকে ৭০ রোহিঙ্গা পালিয়ে লোকালয়ে চলে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পালিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়া কয়েকজন দেশ রূপান্তরের কাছে এ অভিযোগ করেছে। দেশে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে রোহিঙ্গাদের এভাবে পালিয়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এখানে ৩৯৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। যদি কোস্টগার্ড থেকে মানবপাচারের অভিযোগ পাই, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ফিরলেই কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ক্যাম্পে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা থেকে ৩৯৬ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা। ট্রলার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প-৫-এ যাওয়া রোহিঙ্গা আনোয়ার ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানায়, বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা ট্রলার থেকে নামলেও কোনো ক্যাম্পে যায়নি। তারা লোকালয়ে লুকিয়ে আছে। আনোয়ার ইসলাম আরও জানায়, ‘ট্রলারে দেড় মাসে তিনবার মালয়েশিয়ার কাছে যাই। কিন্তু সে দেশে ঢুকতে না পেরে আবার থাইল্যান্ডে চলে আসি। শেষ পর্যন্ত দালালরা আবার ট্রলারটি সেন্টমার্টিনে এনে ১০ দিন রাখে। ১০ দিন পর খাবার শেষ হয়ে যায়। এরপর দালালরা ট্রলারে থাকা নারীদের ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে মারামারি লেগে যায়। এক দালালকে মেরে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। তখন দালালরা ভয় পায়। এরপর নতুন একটি ট্রলার এনে মগ দালালদের আটজন ওই ট্রলারে উঠে চলে যায়। বাকি দুই দালাল ট্রলারটি চালিয়ে পাঁচ দিন পর টেকনাফে নিয়ে আসে।’

আনোয়ার ইসলামের মতো পালিয়ে যায় উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-২ জি-১ ব্লকের রোহিঙ্গা আনোয়ার আলম। দেশ রূপান্তরকে সে জানায়, ‘মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য মহেশখালী সমুদ্র উপকূল থেকে ট্রলারে করে যাত্রা করি। ট্রলারে খেতে পারিনি। অসুস্থ ছিলাম। আমাদের খেতে দিত না। পানি নিয়ে কষ্ট দিত দালালরা। এভাবে দুই মাস সাগরে ভেসে ছিলাম। ৬০ জন মারা গেছে। কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল থেকে উদ্ধারের আগেই ৬০ থেকে ৭০ জন রোহিঙ্গা পালিয়ে লোকালয়ে চলে গেছে।’

এ খবরে করোনাভাইরাস সংμমণের আশঙ্কায় আছেন স্থানীয়রা। টেকনাফের বাহারছড়ার বাসিন্দা মৌলানা রশিদ আহমদ বলেন, ‘দুজনকে দেখে আমি জিজ্ঞাসা করি, কোথা থেকে এসেছেন? তারা বলেন, মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে ছিলাম, ট্রলারটি সাগরের পাড়ে পৌঁছালে এখানে চলে আসি।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশে ট্রলার থেকে স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে বালিয়াড়িতে রাখে। এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড ছিল। কিন্তু এরা আসার আগে কিছু রোহিঙ্গা পালিয়ে গেছে। যেটা স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের বিষয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত