খামারিদের মাথায় ঋণের বোঝা, মুন্সীগঞ্জে পানির দরে দুধ!

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৩৭ পিএম

অনুমোদিত যে কোনো কোম্পানির বোতলজাত এক লিটার পরিশোধিত পানি কিনে খেতে ২০ টাকার দরকার হয়। অথচ করোনার কারণে রাজধানীর কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জে এক লিটার দুধ কিনতে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে না। জেলার ৬টি উপজেলার সর্বত্রই এখন পানির দরে বিক্রি হচ্ছে এই দুধ। তারপরও ক্রেতার অভাবে অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে দুধ। উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পেরে জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি দুগ্ধ খামারিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুগ্ধ খামার। দুধ বিক্রি না হওয়ায় সেই ঋণ এখন দুগ্ধ খামারিদের মাথার বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আবার দুধ বিক্রিতে লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র জা্নান, জেলায় রেজিস্টারকৃত ডেইরি ফার্মের সংখ্যা ৯৯২টি। রেজিস্টার ছাড়া রয়েছে এক হাজার ১৯৬টি ডেইরি ফার্ম। জেলায় এ সব ফার্মে দৈনিক ৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৭ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, করোনায় দুধের বিক্রি কমলেও কোনো ডেইরি ফার্ম বন্ধ হয়নি।

জেলার লৌহজং উপজেলার হলদিয়া গ্রামের ডাচ ডেইরি ফার্মের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জানান, তাদের ফার্মে প্রতিদিন ২ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজার মন্দা থাকায় দৈনিক সবে মাত্র ৫০০ লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। বাকি দেড়-হাজার দুধ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।

ঢাকায় দুধের যে চাহিদা ছিল তা এখন নেই। এ অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা। তবে লোকসানের পাল্লা কমাতে অবিক্রিত দুধ দিয়ে ঘি তৈরি করে রাখছেন তারা।

জেলার সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী গ্রামের নুসরাত ডেইরি খামারের স্বত্বাধিকারী আরিফ খান জানান, তার খামারের ২৬টি গাভীর মধ্যে ৯ টি গাভী দৈনিক ১০০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। আগে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা লিটার প্রতি দুধ বিক্রি হত। করোনার কারণে সেই দুধ লিটার প্রতি এখন ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার অভাবে লোকসানে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এতে তাকে দৈনিক লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। এ অবস্থায় লোকসান কমাতে গাভীগুলোকে খাবার কম দিচ্ছেন। একই সঙ্গে খাবার কম পেলে গাভীই কম দুধ দিচ্ছে। করোনার থাবায় লোকসানের কবলে থাকা এ দুগ্ধ খামারের দুশ্চিন্তা এখন খামার প্রতিষ্ঠাকালে ব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫ লাখ টাকা ঋণ। লোকসান অব্যাহত থাকলে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কিভাবে-তা নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

সিরাজদীখান উপজেলার গোয়ালবাড়ির মা ডেইরি ফার্মের মালিক অরুন ঘোষ জানান, রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানগুলোতে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করেন। করোনার কারণে যানবাহনের অভাব ও মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকায় সেই দুধ বিক্রি হচ্ছে না। তার ফার্মের ৫০টি গাভী থেকে দৈনিক ৬০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এখন ক্রেতার অভাবে স্থানীয়দের কাছে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা দরে সেই দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত