ত্রাণের জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিক্ষোভ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৩ এএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২৭টি ওয়ার্ডে ত্রাণ না পাওয়া মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ওয়ার্ডে ত্রাণের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ, ঘেরাও করা হচ্ছে কাউন্সিলরদের কার্যালয়। নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ বিতরণে সিটি করপোরেশনের নির্লিপ্ততায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সিটির অন্যতম প্যানেল মেয়র। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে সিটি করপোরেশনের ত্রাণ বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়েও। নাসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও সরকারি সাহায্য ছাড়া ত্রাণ বিতরণে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো উদ্যোগ নেই। ২৭টি ওয়ার্ডে ৩০ লক্ষাধিক মানুষের এ নগরে এ পর্যন্ত ত্রাণ পেয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৬৩২ পরিবার।

কয়েকজন নারী কাউন্সিলরের অভিযোগ, এ পর্যন্ত ৭ ধাপে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তারা পেয়েছেন মাত্র একবার। তারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, খাদ্যসংকটে পড়া হাজারো মানুষ এখন ত্রাণের জন্য আমাদের বাড়িঘর, অফিস ঘেরাও করে রাখছে। নারী কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ মিনোয়ারা বেগম জানান, ‘আমি মাত্র ২৪০ প্যাকেট ত্রাণ পেয়েছি।’ সংরক্ষিত ১৯, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ বলেন, ‘আমি মাত্র ১২০ জনের জন্য ত্রাণ পেয়েছি। সাড়ে ৩ হাজার মানুষের লিস্ট নিয়েছে সিটি করপোরেশন কিন্তু এখন মানুষ গালাগাল করছে। ত্রাণের আশায় অনেক মানুষ ভিড় করছে।

এ কারণে বাড়িতে থাকতে পারছি না।’ সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘একবারই শুধু ১৬০ প্যাকেট ত্রাণ পেয়েছি, এখন শুনছি নারী কাউন্সিলরদের আর দেবে না।’ এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র-১ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের (১৬, ১৭, ১৮) কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভা গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত ত্রাণের ২১০টি প্যাকেট পেয়েছি।’ নারী কাউন্সিলরদের শেষ ধাপেও ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না এমনটা শুনেছেন বলে স্বীকার করে বিভা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানাব।’ এসব ব্যাপারে জানতে গত শনিবার সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে ওইদিন মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সরকার থেকে যা পাচ্ছি তা-ই বিতরণ করছি। সবাইকে তো আর একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না। ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।’ তবে প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতি দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী যে পরিমাণ ত্রাণ দিচ্ছেন সেগুলো ভোটার সংখ্যার অনুপাতে ২৭ ওয়ার্ডে বণ্টন করা হচ্ছে। কিন্তু নাসিক এলাকায় যে এরচেয়ে শতগুণ বেশি ত্রাণের প্রয়োজন সেটা তো সরকারকে বলার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তা ছাড়া নাসিকের ফান্ডে কোটি কোটি টাকা রয়েছে, আমাদের উচিত ছিল সরকারের দিকে না তাকিয়ে জরুরি সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিটির ফান্ড ব্যবহার করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’ এদিকে ত্রাণের দাবিতে গত ১১ এপ্রিল ২১ নম্বর ওয়ার্ড ও ১২ এপ্রিল ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ৭ হাজার পরিবারের ত্রাণ প্রয়োজন। পেয়েছি মাত্র ৩০০ জনের।’ নাসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য মোট ১৯৫ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন চাল ও ত্রাণসামগ্রী কেনার জন্য ৮ লাখ ৮২ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে। শিশুখাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। ১০৬ দশমিক ৩২ মেট্রিক টন চাল ২৭টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে; যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। এ ব্যাপারে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন গত শনিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, এ পর্যন্ত ৭ ধাপে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপের ত্রাণ পুরোটাই মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেওয়া হয়েছে। আর নারী কাউন্সিলরদের একবারই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে লোকসংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ। সেখানে ত্রাণ যা এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একশ ভাগের এক ভাগও না। এখন মানুষ আমাদের ওপরই ক্ষুব্ধ হচ্ছে, অন্যদের তো খুঁজে পায় না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত