গত এক যুগেরও বেশি সময় সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করে যাচ্ছেন তারা। দুজনে মিলে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ১১টি। রেকর্ড ৬ বার জিতেছেন লিওনেল মেসি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধিকারে ৫টি। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়ের একটি। দুজনের মধ্যে কে সেরা এই নিয়ে কথার লড়াই সারা বিশ্বে। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম সরাসরি বলে দিয়েছেন, মেসিই সেরা। আর্জেন্টাইন সংবাদ এজেন্সি তেলামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসিকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করে বেকহ্যাম বলেছেন, ‘মেসি যে ধরনের খেলোয়াড়, সেখানে সে একাই আছে। অন্য কারও পক্ষে তার সমপর্যায়ের হওয়া সম্ভব না। খেলোয়াড় হিসেবে তার মতো কেউ নেই।’ এমনটা বলার পর স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে রোনালদোর প্রসঙ্গ।
তার উত্তরও দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার, ‘রোনালদো এখনো মেসির উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি, তবে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাদের দুজনের মেধা ও টেকনিকে অনেক মিল আছে। এটা সত্যিই খুব দারুণ ব্যাপার যে, তারা দুজন একই সময়ে খেলছে। তবে মেসি নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।’ মজার ব্যাপার হলো, রোনালদো ও বেকহ্যাম দুজনই খেলেছেন একই ক্লাবের জার্সি গায়ে। যদিও একই সময়ে নয়। ম্যান ইউনাইটেড ও রিয়াল, দুই ক্লাবেই বেকহ্যামের উত্তরসূরি হিসেবে খেলেছেন রোনালদো। তবুও ফুটবলের অন্যতম সেরা দ্বৈরথে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন বেকহ্যাম। অন্যদিকে, মেসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন বেকহ্যাম পিএসজি’র হয়ে খেলার সময়। ১৯৯২ থেকে ১১ বছর ম্যান ইউ-এ কাটানোর পর ২০০৩ থেকে ৪ বছর রিয়াল মাদ্রিদে খেলেন তিনি। ২০১৩ সালে যোগ দেন পিএসিজতে। ২০১২-১৩ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হয়েছিল মেসি-বেকহ্যামের। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ গোল গড়ে সেই লড়াইয়ে সমতা থাকলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে উঠেছিল বার্সা।
সেই লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে বেকহ্যাম বলেছেন, ‘মেসি নামার আগ পর্যন্ত আমরা এগিয়েছিলাম। সে মাঠে এলো (বদলি হিসেবে) এবং বার্সা (পেদ্রো) গোল করল। তখন আমার বয়স হয়ে গিয়েছিল। তবে আমি লড়াইটা উপভোগ করেছি। আমরা দুই লেগেই ভালো খেলেছিলাম। আমরা যা করেছি তাতে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। তারা আমাদের হারাতে পারেনি।’ বার্সা সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে যায়। রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ হারে আরেক জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে। পরে বরুসিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বায়ার্ন।
×
