ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ধর্মীয় নেতার জানাজায় জনসমাগম ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, অনেক লোক হয়তোবা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ধরনের দায়িত্বহীন কাজ হওয়া উচিত হয়নি। গতকাল রবিবার কভিড-১৯ নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত অনলাইন সংবাদ বুলেটিনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বিশেষ জমায়েত লক্ষ করলাম, সেখানে হাজার হাজার লোক জানাজায় শরিক হয়েছে। এ সময়ে এ ধরনের জমায়েত খুবই ক্ষতিকর হয়েছে। এতে ঝুঁকি তৈরি হলো। অনেকে আক্রান্ত হতে পারে। এখানে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যেভাবে আশা করছি লকডাউন সেভাবে কাজ করছে না। দ্বিতীয়ত, মানুষ আক্রান্ত এলাকা হতে অন্য এলাকায় যাচ্ছে। যার কারণে নতুন করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এখন আক্রান্তের সপ্তম সপ্তাহে আছি। এ সময়টায় ইউরোপ-আমেরিকাতে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং মারা গিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলি, তাহলে আমাদের অবস্থাও ভালো হবে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার হচ্ছে অনেকগুলো এলাকা থেকে। যার মধ্যে বেশি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, বাসাবো, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং কেরানীগঞ্জ। এসব এলাকা থেকে এখনো অনেক লোক বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের মাধ্যমে দেশের মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। এখনো অনেকে নিজেদের লুকিয়ে রেখে অন্যকে সংক্রমিত করছে। তাদের এলাকায় রাখার কাজটি আরও জোরদার করা উচিত। যারা এ দায়িত্বে আছেন, তাদের সেই দায়িত্ব আরও কঠোরভাবে পালন করা প্রয়োজন।
দেশে এখনো বেশি করে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের টেস্টিং কিটস এখন ১ থেকে ২০টি হয়েছে। টেস্টিংটা বেশি করা হোক। এখনো আমরা সে পর্যায়ে যেতে পারিনি। আমাদের টেস্ট আরও বেশি করা উচিত। এতে রোগী শনাক্ত করতে পারব, তাকে চিকিৎসা দিতে পারব, আইসোলেশনে নিতে পারব, তাতে সংক্রমণ রোধ হবে।
তিনি বলেন, শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ বিনা চিকিৎসায় এমনিতেই সেরে ওঠে। ১৫ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকে। বাকি ৫ শতাংশের চিকিৎসা দরকার হয়। আর কিছু রোগী আইসিইউ-ভেন্টিলেটরে চলে যায়।
