করোনায় নবীন ক্রিকেটারদের ক্ষতি বেশি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫১ এএম

হাবিবুল বাশার সুমনের একটা আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস।

‘মনে একটা দুঃখ ছিল; ফ্ল্যাটটা ১৪০০ স্কয়ার ফিট না হয়ে ২০০০/৩০০০ স্কয়ার ফিট হলে ভালো হতো।’ গতকাল দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের শুরুতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মজা করেই বলছিলেন, ‘এখন মনে হয়, এটাই ঠিক আছে। মানে যখন ঘর মোছাটা শেষ করি।’

গোটা দুনিয়াকে বদলে দেওয়া কভিড-১৯ আসলে ঘরবন্দি মানুষের কাছ থেকে বেঁচে থাকার আনন্দটাও কেড়ে নিচ্ছে। সাবেক এই কৃতী ব্যাটসম্যানকে তাই বলতে হয়, ‘দিনকাল কাটছে না। প্রথম দিকে খুব উৎসাহ ছিল। এখন...।’

কবে দুনিয়া আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে সেটা নিয়েই ভাবনা। জাতীয় দলের দুই নির্বাচকের একজন হয়েও এই পোড়া দিনকালে হাবিবুলের মনে তাই ‘সিলেকশন’ নিয়ে ভাবনার ঘরেও তালা ঝুলছে।

এই অচল সময়টা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। কেউ জানে না শেষ কবে। তবু আশা নিয়ে মানুষকে বাঁচতে হয় বলে হাবিবুল বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এখন আসলে এটাই শুধু ভাবি যে কবে কীভাবে মাঠে ফিরতে পারব। সিলেকশন নিয়ে এলে এই মুহূর্তে খুব একটা কিছু ভাবছিও না। কবে মাঠে ফিরতে পারব, কবে খেলা শুরু করা যাবে সেটাই মাথায় ঘোরে।’ এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের তো নির্বাচনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে। বছরের শেষের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা ছিল। টুর্নামেন্ট নিয়েই তো এখন সবাই সংশয়ে। সব থেমে আছে।’

তবু যখন জাতীয় দল নিয়ে কথা তখন অনেক ক্ষতির মধ্যে একটা বিশেষ ক্ষতি দেখতে পান হাবিবুল। বুঝতে পারেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের যেসব তরুণ মাত্র শুরু করেছিল, যাদের এখন বিকশিত হওয়ার কথা মূল ক্ষতিটা বইতে হবে তাদের, ‘আমাদের জন্য ঝামেলাটা হবে নতুন যে খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা কাজ করছি সেদিকটায়। যাদের পরবর্তী সময়ে দেওয়ার কথা তারা থেমে গেল আর কি।’ 

এই বসে থাকাটা বাংলাদেশের মূল দলকে কীভাবে ক্ষতির মুখে ফেলছে সেটা বলতে গিয়ে হাবিবুল বলছিলেন, ‘নতুন যে খেলোয়াড়রা এসেছে, যারা ২০২৩ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় সেই তাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। শান্তর (নাজমুল হোসেন) মতো খেলোয়াড়, কিংবা আফিফ (হোসেন) কিংবা ইয়াসির রাব্বি বা হাসান মাহমুদের কথা বলি। এরা কেবল শুরু করেছিল। এই সময়টা ওদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

২১ বছরের শান্তর ২০১৮ সালে ওয়ানডে অভিষেক হলেও বাদ পড়েছিলেন। এই বছর নতুন আত্মবিশ্বাসে ফের শুরু হয়েছিল তার। অলরাউন্ডার আফিফ ও পেসার হাসান, দুজনই ২০ বছরের। দুজনের ওয়ানডে শুরু হয়েছিল মার্চে। ব্যাটসম্যান রাব্বি জাতীয় দলের সঙ্গে কয়েক দফা থাকলেও এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি। পরিকল্পনায় আছেন।

‘এখন যদি খেলাটা হতো এবং ওরা ভালো খেলতে পারত তাহলে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারত। ওরা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হয়ে যেতে পারত। ছন্দটাই নষ্ট হয়ে গেছে’ বলছিলেন হাবিবুল।

নবীনদের পথচলা বড় বাধার মুখে পড়তে দেখলেও নতুন শুরুতে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানদের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে নিঃসংশয় হাবিবুল, ‘যারা সিনিয়র খেলোয়াড় আছে যেমন মুশফিক, সাকিব, তামিম...ওরা ঠিক থাকবে। ওরা সিজন ক্রিকেটার তো। ওদের আবার ফিরতে বেশি সময় লাগবে না। আমি নিশ্চিত যে ওদের আবার ফিরে আসতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না। ওরা এত বছর ধরে খেলছে যে ওদের টাচে ফিরতে, ছন্দ খুঁজে পেতে সময়টা তেমন লাগবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত