দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর সংখ্যা একশ ছাড়াল। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রথম মৃত্যুর এক মাস দুই দিনের মাথায় গতকাল সেই মৃত্যুর সংখ্যা একশ পার করল। এদিকে মৃত্যুর সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার দিনে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যাও পূর্বের সব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এদিন রেকর্ড ৪৯২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই সংখ্যা আগের দিনের ৩১২ জন থেকে শতকরা ৫৮ ভাগ বেশি। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা শনাক্তের মোট সংখ্যা তিন হাজার ছুঁই ছুঁই।
গতকাল সোমবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ৭৭৯ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৯২ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ২ হাজার ৯৪৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১০১ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮৫ জন।
বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে পুরুষ ৮ জন ও মহিলা ২ জন। তাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব ৪ জন, ৫১-৬০ এর মধ্যে ৪ জন ও ৪১-৫০ এর মধ্যে ২ জন। তাদের ৫ জন ঢাকা শহরের, ৪ জন নারায়ণগঞ্জের ও ১ জন নরসিংদীর।
তিনি জানান, নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে শতকরা প্রায় ২০ ভাগ গাজীপুরের, প্রায় ১৪ ভাগ কিশোরগঞ্জের এবং ৬ ভাগ নরসিংদীর।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৫৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ৭১৩ জন। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৪ জনের। এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ১১৯টি। মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯২১টি। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে মোট ৯৩ হাজার ৩৫৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে দেশে প্রবেশ করেছেন মোট ৩২১ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
প্রথম ৫০ মৃত্যু ২৯ দিনে, দ্বিতীয় ৫০ মাত্র ৫ দিনে : দেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত ১৮ মার্চ। এরপর গত ১৫ এপ্রিল দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ৫০ জনে দাঁড়ায়। গতকাল ২০ এপ্রিল তারিখে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১ জনে। অর্থাৎ প্রথম ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৯ দিনে। কিন্তু দ্বিতীয় ৫০ জনের মৃত্যু হলো মাত্র ৫ দিনে। অর্থাৎ আগের ২৯ দিনের তুলনায় শেষের ৫ দিনে মৃত্যুর হার বেড়েছে শতকরা ৮৩ ভাগ।
কোয়ারেন্টাইন বেড়েছে আটগুণ : বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার ৮০৯ জনকে। এই সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় আটগুণ বেশি। আগের দিন ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছিল ৩ হাজার ৮৯২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ২৭০ জনসহ সারা দেশে মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯ জনকে। একদিনে এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এবং মোট কোয়ারেন্টাইনের শতকরা ২০ ভাগ। গত ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্তের পর থেকে গত প্রায় দেড় মাসে মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২১৪ জনকে। এরমধ্যে ছাড় পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৮০ হাজার ৪০২ জন।
