করোনার জন্য ডুপ্লেক্স ছাড়ছেন ন্যানসি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১০ এএম

জীবনকে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। যে বিষয়ে তিনি বরাবরই অকপট। এই গুণের জন্যই ন্যানসিভক্তের চোখে আলাদা ও অতুলনীয়। চলমান করোনা পরিস্থিতির কথাই ধরা যাক। শোবিজের অনেক তারকা এই দুঃসময়ে খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ন্যানসিকে কথা শুনতে হয়েছে।

তা নিয়ে শোনা যাক তার মুখেই, ‘অনেকেই আমাকে ফেইসবুকে বলছেন, তারকারা দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আপনাকে তো দেখা যাচ্ছে না। যে তারকারা এই কাজগুলো করছেন, তাদের আমি সম্মান করি; কিন্তু আমি ভাবছি অন্যভাবে। সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। যদিও চুরি হচ্ছে অনেক, সেটা আলাদা প্রসঙ্গ। আমি মনে করছি না এখনই আমাকেও ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চাই দ্রুত এই কঠিন সময় পার হোক। কিন্তু যেভাবে অনিয়ম হচ্ছে, তাতে সময়টা আরও দীর্ঘ হতে পারে। হয়তো এক মাস পর দেশে সে সময় আসবে, যখন মানুষ সত্যিই না খেতে পেরে মারা যাবেন। তখন হয়তো আমার পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনও তীব্র অভাবের মধ্যে পড়বে। সে সময়েই আমি সাহায্য করতে চাই। শুরু করব ঘর থেকেই, কাছের মানুষের হক আদায় করাই একজন মানুষের প্রথম দায়িত্ব।’

ত্রাণ নিয়ে হাজির না হলেও ন্যানসি অন্যভাবে মানুষকে সেবা দিচ্ছেন। তার স্বামী সিটি করপোরেশনে স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেন। তাই নিজের গাড়িটি সিটি করপোরেশনের নানা কাজে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন। এবার তিনি নেত্রকোনার ডুপ্লেক্স বাড়িটি দিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ন্যানসি বলেন, ‘আমি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসককে বলেছি, তারা চাইলে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য আমার বাড়িটি ব্যবহার করতে পারেন। আমি বিষয়টি ভেবেছি এই জন্য যে, এখন এই বাড়িতে কেউ থাকেন না। তা ছাড়া আবাসিক এলাকায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় অনেকে আপত্তি করতে পারেন। কিন্তু আমার বাড়িটি সেদিক থেকে নিরাপদ। বাড়ির আশপাশে তেমন কোনো বিল্ডিং নেই। জেলা প্রশাসক চাইলে রোগীর সেবায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িটি ব্যবহার করতে পারেন।’

তারকাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের অযাচিত আগ্রহ নিয়েও কথা বলেছেন ন্যানসি, ‘তারকারা কোনো কিছু করলেও সমস্যা, না করলেও সমস্যা। প্রায়ই ফেইসবুকে আমার পোস্টের নিচে কমেন্ট দেখি, মাথায় কাপড় নেই কেন? আমি নামাজ পড়ি কি না? ত্রাণ দিচ্ছি না কেন? সেদিন তো দেখলাম, একজন লিখেছেন, আমরা শিল্পীরা নামাজ পড়ি না বলে দেশে করোনা এসেছে! গতকালই একজন ফেইসবুকে কমেন্ট করেছেন, আমি ন্যানসিকে খুব ভালো করে চিনি। করোনায় বাড়ি দেওয়ার বিষয়টিও তার একটি নতুন ধান্দা। আরেকজন লিখেছেন, বাড়িতে কেউ থাকেন না, খালি পড়ে আছে বলেই আমি তা দিতে চাচ্ছি। এসব মানুষকে আমি কী জবাব দেব? সহায়তার হাত বাড়ালেও সমস্যা, কিছু করলেও সমস্যা। বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি, এখানে ধান্দাবাজির কী আছে? আমি নামাজ পড়ি কি না সে কথা তারা কীভাবে জানলেন? আর আমার বাড়িতে কেউ নেই বলেই তো তা ছেড়ে দিতে পারছি। কেউ থাকলে তাদের বের করে দিয়ে তো কাজটি করতে পারতাম না। শিল্পীরা তো সাধ্যমতো সাহায্য করছেন, যারা কমেন্ট করছেন, তারাও তো কোনো একটি পেশায় আছেন। তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত