তেল কিনলে উল্টো টাকা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৩৬ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশ যে লকডাউন কার্যকর করেছে তাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। বন্ধ রয়েছে কলকারখানা। যান চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নেমে এসেছে শূন্যেরও নিচে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার নজিরবিহীন এই পরিস্থিতির মধ্যে যখন বাজার শেষ হয় তখন ফিউচার মার্কেটে মে মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলার। এর অর্থ হলো ক্রেতাকে প্রতি ব্যারেল তেলের সঙ্গে এই পরিমাণ অর্থও দিতে রাজি ছিলেন উৎপাদকরা। তবে মঙ্গলবার আবার এই দাম শূন্যের ওপর উঠেছে।  যুক্তরাজ্যেও তেলের দাম অনেক পড়ে গেছে। তবে ব্রিটিশ তেল, যা বাজারে পরিচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল হিসেবে, তার দাম এক ব্যারেল এখন প্রায় ২৩ ডলার।

ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সংস্থার বিশ্লেষক জেমস ট্র্যাফোর্ড বিবিসিকে বলেছেন, সোমবার বাজারে তেলের দামের এই নজিরবিহীন পতনকে উদ্ভট বলেই দেখতে হবে। বুঝতে হবে যে, ভবিষ্যতে বাজারে এমন আশ্চর্য কাণ্ড ঘটতে পারে।

তিনি মনে করেন, এই নজিরবিহীন মূল্যপতন এটা নিশ্চিত করছে যে সামনের মেয়াদে তেলের বাজার খুবই দুর্বল থাকবে। তবে এটা বাজারের ভয়ংকর একটা উথালপাতাল পরিস্থিতির কোনো সূচক নয়।

চাহিদা না থাকা ও উৎপাদন অব্যাহত থাকায় মে মাসেই তেল মজুদের আর জায়গা থাকবে না বলে আশঙ্কার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। মে মাসে সরবরাহের জন্য তেল কেনাবেচার চুক্তি করার সময় গতকালই শেষ হয়। তবে জুনে সরবরাহের জন্য এই তেলের দাম ৯৬ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ২১ দশমিক ৩৯ ডলারে ওঠে।

এদিকে জুনে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ব্রেন্টের দাম ২০ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ২৫ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া রয়টার্সকে বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট তেলের চাহিদা বিপর্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চালুর গতি কাক্সিক্ষত মাত্রার চেয়ে ধীর হবে।

মে মাসের আগেই গুদাম, শোধনাগার, টার্মিনাল, জাহাজ, পাইপলাইন সবগুলোর ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কার কথা বিবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, ওকলাহোমার কাশিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত  জ্বালানি তেলের প্রধান গুদাম ও সরবরাহ কেন্দ্রে তেল রাখার জায়গা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে।

তেলের দরে ঐতিহাসিক পতনের পর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব থেকে তেল আমদানি আপাতত বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত