জ্বর-শ্বাসকষ্টে কলেজশিক্ষক মুয়াজ্জিনসহ ৭ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৩৮ এএম

জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় মারা গেছেন এক নৈশপ্রহরী ও এক কলেজশিক্ষক। জেলায় এক দিনে দুজনের মৃত্যুতে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া খুলনায় মারা গেছেন একটি মোবাইল কোম্পানির এক কর্মী, পটুয়াখালীতে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি, গোপালগঞ্জে এক তরুণ, ফেনীতে এক মুয়াজ্জিন এবং জামালপুরে এক তরুণী। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী এ নিয়ে গত ১২ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে মারা গেল ৯৭ জন।

খুলনা : গতকাল সকালে মারা যাওয়া নুরুজ্জামান খান (৪৩) পাঁচ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের গোলাম খানের ছেলে নুরুজ্জামান একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাকুর রহমান বলেন, সকাল ৯টার দিকে নুরুজ্জামানকে হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। তার আগেই তিনি মারা যান। করোনার উপসর্গ থাকায় তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী : জেলার জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. লোকমান হাকিম জানান, গতকাল ভোরে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের আনোয়ার হোসেন তালুকদার (৬৫)। কিছু সময় পরই তার মৃত্যু হয়। সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলায় আরও আটজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। মৃত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ : কোটালীপাড়া উপজেলায় গতকাল ভোররাতে মারা গেছেন নাদিম মোল্লা (২২) নামে এক তরুণ। তিনি উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামের ইলিয়াছ মোল্লার ছেলে। বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহব্বত আলী গোলদার বলেন, নাদিম কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। রাত ৩টার দিকে তার অনেক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য জানান, মৃতের নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জ¦র, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল ভোরে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা পশ্চিমপাড়ায় আবদুর রহিম নামে এক নৈশপ্রহরী ও আশাশুনির কাকবাশিয়া গ্রামের রেজাউল করিম নামে এক কলেজশিক্ষক মারা গেছেন। দুজনেরই নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হবে। জেলায় এক দিনে দুজনের মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আবদুর রহিম পাটকেলঘাটা পশ্চিমপাড়ার ওমর আলী গাজীর ছেলে ও রেজাউল করিম কাকবাশিয়া গ্রামের মৃত ফজর আলী গাজীর ছেলে।

জামালপুর : স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শহরের বগাবাইদ এলাকায় নারায়ণগঞ্জফেরত ২৭ বছর বয়সী এক তরুণী সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টে সোমবার রাতে মারা গেলে রাতেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগে ইসলামপুর উপজেলায় মৃত্যুর পর দুই নারীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েছিল।

ফেনী : দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বজলুর রহমান (৬৮) সোমবার রাতে মারা যান। তিনি বাড়ির পাশের মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোবায়েত জানান, বজলুর রহমান জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানান, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না জানতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার বাড়িসহ আশপাশের পাঁচ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত