প্রাণিসম্পদ কর্মীদের অফিস বাধ্যতামূলক

২৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষোভ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২০, ০৬:২১ এএম

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গত সোমবার এ নির্দেশনা জারির পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এমন ঘোষণায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত মিলে প্রায় ২৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) দেওয়া হয়নি। পরিবহনের ব্যবস্থা নেই। ফলে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে কর্মস্থলে যেতে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জেরার মুখেও পড়তে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে জানান, শুধু তারা নন, পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা চালু রেখে অন্যান্য শাখা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে লাইভস্টক নন-ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. আফসার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ এলাকা করোনা সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যে ৫৪টি জেলায় একযোগে লকডাউন চলছে। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে কর্মস্থলে যাব? কোনো পিপিই দেওয়া হয়নি। এমনকি কর্মস্থলও ভাইরাসমুক্ত করার ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় প্রতিনিয়ত অফিস করার নির্দেশ অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহ এবং মুরগি ও ডেইরি ফার্মগুলো ‘জরুরি’ হিসেবে বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করে চালু রাখা যেতে পারে। এরপরও কর্মঘণ্টা কমিয়ে রোটেশন পদ্ধতি রাখতে হবে। এসব না করে ঢালাওভাবে সবাইকে কর্মস্থলে হাজির থাকতে বলা ঠিক নয়।’

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ শাখা থেকে উপসচিব ড. অমিতাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারীজনিত পরিস্থিতিতে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়, বিভাগ, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থানপূর্বক জরুরি চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন, টিকা দেওয়া, পরামর্শ সেবা, জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কাজ এবং হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, মাছের পোনা, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, প্রাণিজাতপণ্য, পোলট্রি, পশু ও মৎস্য খাদ্য, কৃত্রিম প্রজননসহ প্রাণী চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত ওষুধ, সরঞ্জামাদি নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, পরিবহন এবং বিপণনে প্রয়োজনীয় সহায়তা  দেবেন। প্রয়োজনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করে উদ্ভুত সংকটাপন্ন পরিস্থিতি সমাধান করবেন। কোথাও কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবহিত করে লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। সবাইকে সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে অবস্থান করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয় নির্দেশনায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত