অনুমোদনের অপেক্ষায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০১:৫৩ এএম

অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পিডিবির ছাড়পত্র (আইওডি) পেলেই শুরু হবে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন। পরিবেশবান্ধব সুপার আল্ট্রা টেকনোলজির এ প্ল্যান্ট থেকে পর্যায়ক্রমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে কয়লাভিত্তিক ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

২০১৪ সালে চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের সঙ্গে দেশি প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করে। যৌথ মূলধনসহ বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠন আর  ক্রোড়পত্র আহ্বানের পর ২০১৬ সালের মার্চে পটুয়াখালীর কলাপড়ার ধানখালীর নিশানবাড়িয়ায় চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাওয়ার কোম্পানি (এনইপিসি) শুরু করে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রটির ৬৬০  মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে। পরীক্ষণের বিভিন্ন ধাপ শেষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন  বোর্ড (পিডিবি) কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের ছাড়পত্র (আইওডি) প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। বিসিপিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক শাহমনি জিকো বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। সব প্রতিকূলতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন।

১৩২০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্টটির ২ ইউনিটের জন্য প্রতিদিন ১৩ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন। দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এ কয়লা আমদানি হচ্ছে। বিসিপিসিএলের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজোয়ান ইকবাল খান বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্ল্যান্টের জেটিতে ৬০ হাজার টনের জাহাজ আসার সক্ষমতা থাকলেও বন্দরের নাব্য সংকটে আসছে ২০ হাজার টনের জাহাজ। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

বিসিপিসিএলের প্রকল্প পরিচালক শাহ  গোলাম মওলা বলেন, পিজিসিবি থেকে পাওয়া ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা  শেষে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করব। পাশপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত চলমান রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে ইউনিটের ব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত