আমাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০২:০৪ এএম

নন্দিত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী রোমানা রশিদ ঈশিতা। ২০ তারকার নৃত্যযোগে অংশ নিয়েছেন সম্প্রতি। হোম কোয়ারেন্টাইন ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

মন খারাপ...

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতো, দেশের মানুষের মতো আমিও ঘরে আছি। কিন্তু একটা বিষয়ে মন খুব খারাপ। যখনই বারান্দায় আসছি, দেখতে পাচ্ছি রাস্তায় গাড়ি চলছে, রিকশা চলছে। মানুষ হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। আমাদের না ঘরে থাকার কথা? কোথায়? কোটি কোটি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে কি সরকার তাদের আটকে রাখতে পারবে? এটা কি সম্ভব? আমরা তো প্রাপ্তবয়স্ক। আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই? জরুরি কাজে অবশ্যই বাইরে যেতে হবে। কিন্তু কোনটা জরুরি কাজ, কোনটা কম জরুরি আর কোনটা একেবারেই জরুরি নয়, সেটা বিবেচনা করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই। আমরা অনেক বড় বিজ্ঞানীও না, অনেক বড় পলিসি মেকারও না। আমরা সবকিছু বুঝিও না। কিন্তু আমরা যেটা করতে পারি, তা হলো যারা বোঝেন, তারা যা বলছেন তা মেনে চলতে। আরেকটি কাজ করতে পারি, এই কাজটি খুবই শক্তিশালী। তা হলো যে যার ধর্মমতে প্রার্থনা করতে পারি। সৃষ্টিকর্তাই পারেন এই ভয়াবহতা দূর করতে।

চিন্তিত ঈশিতা...

আমি এখন বেশ চিন্তিত। বর্তমান নিয়ে চিন্তিত, মনে হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাই কি না। পরিবারের সবাইকে যথাযথ টেক কেয়ার করতে পারব কি না। দেশের মানুষ কীভাবে এই কঠিন সময় পার করছে এসব নিয়ে। ভবিষ্যৎ নিয়েও আমি চিন্তিত। করোনাকাল হয়তো পার হয়ে যাবে, কিন্তু তার রেশ বিশ্ব ও দেশের অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা আমরা কতটা সামাল দিতে পারব।

হোম কোয়ারেন্টাইন...

আমার দুটি সন্তান। একজনের বয়স ৪, আরেক জনের ১০। মেয়ে নার্সারিতে পড়ে, ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে তাদের প্রচুর হোম ওয়ার্ক দেওয়া হয়। সেগুলো শেষ করাতে আমার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পার হয়ে যায়। তারপর টুকটাক রান্না করি। রান্না করতে খুব ভালোবাসি। ডাল, ভাত, ভর্তা, ভাজি সাধারণ খাবারই খাচ্ছি। এক্সপেরিমেন্ট করে রান্না করতে পছন্দ করি, কিন্তু সেটা তো এখন সম্ভব নয়। কারণ, বাসায় রান্নার সব ধরনের উপকরণ নেই। বাইরে যাওয়া মানা। একটা ফ্যান্সি কেক বানানোর জন্য বাইরে যাওয়া কিন্তু জরুরি কাজ না। ঘরে ভাতের চাল না থাকলে বাইরে যাওয়া জরুরি, এটা সবাইকে বুঝতে হবে। যাই হোক, বই পড়তেও খুব ভালোবাসি। ‘ম্যান সার্স ফর মিনিং’ নামের একটি বই পড়া শুরু করেছি। কিন্তু আর পড়ব না! কারণ, বইটি যুদ্ধের ওপর লেখা। ছোটবেলা থেকে স্ক্রিপ্ট পড়ার অভ্যাস তো, তাই যেকোনো বই পড়তে গিয়ে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে পড়ি। এমনিতেই একটা অস্থির সময় পার করছি, তাই এই বইটি পড়ে আরও অস্থির হওয়ার ইচ্ছা নেই। একই সঙ্গে একাধিক বই পড়ার অভ্যাস আমার। একটা ভারী বিষয়ের বই পড়তে গিয়ে যখন খুব কষ্ট লাগে, তখন পাশাপাশি একটি হাসির বা রোমান্টিক বই পড়ি। ‘টিংকার্স’ নামের আরেকটি বই পড়ছি। শুরু করেছিলাম ২০১২ সালে। কিন্তু শেষ করার আগেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। কোয়ারেন্টাইনের সময়ে ঘর গোছাতে গিয়ে বইটি আবার পেলাম। মজার একটি বই, কিন্তু এখানেও একটা সমস্যা আছে। বইটি শুরু হয় একটি লোকের মৃত্যুর মাধ্যমে। তিনি মরার আগে তার বিভ্রম হয়, তিনি দেখতে পান দেয়ালের ভেতর থেকে অদ্ভুত রকমের পোকামাকড় বেরিয়ে আসছে। এ সময় পড়ার জন্য এ বইটাও কতটা উপযুক্ত বুঝতে পারছি না। কিন্তু এত দারুণ লেখা, পড়েও ফেলতে পারি। হুমায়ূন আহমেদের বই সব সময় পড়তে ভালো লাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত